রবিবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

বিচারকের দিকে ঝুড়ি নিক্ষেপ, কর্মচারী-আইনজীবীদের হাতাহাতি

এপ্রিল ২৪, ২০১৮

মারধরের ঘটনায় দায়ের করা এক মামলায় আসামিকে জামিন না দেওয়ায় ঢাকা বারের এক আইনজীবী বিচারকের দিকে ঝুড়ি নিক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আইনজীবী ও কর্মচারী আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল এনটিভি অনলাইনকে জানান, আজ ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাতের মামলায় প্রধান আসামি শেখ মোতালিবের পক্ষে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। ওই মামলায় বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করলে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মামলার দরখাস্তটি ফেরত দেওয়ার জন্য বিচারককে অনুরোধ করেন। ওই সময় আদালত আবেদনটি ফেরত না দিলে মামুনের জুনিয়র এক আইনজীবী পেছন থেকে বিচারককে লক্ষ্য করে প্লাস্টিকের একটি ঝুড়ি নিক্ষেপ করেন। এরপর বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।

আদালতের পেশকার মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘বিচারক মামলায় জামিন না দিলে আইনজীবীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আদালতের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলেন। এ সময় আদালতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, জামিন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতের পেশকার শরীফ ও মামুনের জুনিয়র আইনজীবী সজীব ও আকিলের সঙ্গে মারামারি শুরু হয়। মারামারির একপর্যায়ে আইনজীবী সজীব ও আকিলসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আদালতে এ পরিস্থিতির পর আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন।
ঢাকা বারের আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আইনজীবীকে আহত করার প্রতিবাদ শুধু কোর্ট বর্জন করে থেমে থাকা নয়, সব আদালতের ঘুষখোর পিয়ন পেশকারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আরো কঠোর আন্দোলন চাই।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা কোর্টের সব পিয়ন পেশকার বড় ধরনের ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ। এদের কাছে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা অসহায় ও জিম্মি।’
এ ঘটনায় সন্ধ্যায় ঢাকা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা বারের সাবেক ও বর্তমান সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে কুদ্দুস জামান এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এজন্য ঢাকা বারের আইনজীবীদের ও বিচারকদের সতর্ক হতে অনুরোধ করেন। এছাড়া জেলা জজ আজকের ঘটনায় আদালতের বিচারক ও কর্মচারীদের মধ্যে কোনো ধরনের গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এছাড়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির আইনজীবীদের মধ্যে কোনো ধরনের গাফিলতি বা ত্রুটি আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করার পরামর্শ দেন।
.
সংগ্রহে- মিহির মিশকাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*