বৃহস্পতিবার , ১৮ অক্টোবর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

আইসিসিতে রোহিঙ্গা নিধনের তদন্ত শুরু

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলামদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত(আইসিসি)। পরে এই একই প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের ওপর পুরো তদন্তে নামবে সংস্থাটি।

হেগের এই আদালতের কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে,তাতে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না-সে বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে হাত দিয়েছে তার দফতর।

রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত আসার ধারাবাহিকতায় এই তদন্ত শুরু হল।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ওপর দমন পীড়ন শুরু করে মিয়ানমার সেনারা। তাদের হামলার মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী।

আইসিসি’র প্রধান প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদা বলেন, রোহিঙ্গা নিধনের ওপর তারা যেসব যেসব তথ্যাদি যোগার করেছেন তা প্রাথমিক তদন্তের জন্য পর্যাপ্ত। এই তদন্ত সত্য প্রমাণিত হলে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে পুরোদমে তদন্তে নামবে সংস্থাটি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়ন, রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেয়াসহ ভয়াবহতম মানবিক অপরাধের অভিযোগ ওঠেছে।

বেনসৌদা বলেন, তার কাছে এমন একাধিক রিপোর্ট আছে যেখানে রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক দেশত্যাগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি সংখ্যালঘু ওই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, হত্যা, যৌন সহিংসতা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, ধ্বংস ও লুণ্ঠনের মত অপরাধ চালানো হয়েছে; তাদের সেগুলোরও প্রমাণ রয়েছে।

আইসিসি’র এই ঘোষনার কয়েক দিন আগেই রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তে নামার রায় দেয় আইসিসি। তখন মিয়ানমারের বলেছিল, আইসিসির সদস্য না হওয়ায় তাদের নিয়ে বিচারের কোনো এখতিয়ার আইসিসির নেই।

মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের একটি রিপোর্টের কড়া সমালোচনা করার পরই এই ঘোষণা দিলেন আইসিসপ্রধান বেনসৌদা। ওই রিপোর্টে মিয়ানমার সরকার মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংক্রান্ত অপরাধের জন্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আহবান জানিয়েছিল জাতিসংঘ। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*