বৃহস্পতিবার , ২২ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, নেতাকে ছাত্রলীগ তুলে নেওয়ার অভিযোগ

জুন ৩০, ২০১৮

সংবাদ সম্মেলনের আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। ছবি: দীপু মালাকারবিডি ল নিউজঃ সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের ওপর আজ শনিবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে। তাঁদের এক নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রলীগ অজ্ঞাত স্থানে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ছাত্রলীগ বলছে, আন্দোলনকারীদের একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাধারণ ছাত্ররা তাঁদের প্রতিহত করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আজ বেলা ১১টার সময় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনের আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে মারধর করা হয়।মারধরের একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ছবি: দীপু মালাকার

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের ভাষ্য, আজ দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকে ছাত্রলীগের কয়েকজন তুলে নিয়ে গেছেন। তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাঁদের ১২-১৩ জন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, আতাউল্লাহ, আরিফ, মামুন ও জসিমের নাম বলেন তিনি।

এর আগে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর পিস্তল ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। আমরা তাঁদের কাছে এটা প্রত্যাশা করিনি।’ রাশেদ খান ওই সময় আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পরে জানানো হবে।আন্দোলনকারীদের মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবি: দীপু মালাকার

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উপস্থিত হন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় আন্দোলনকারীদের পাঁচ-ছয়জনকে মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, দুপুর ১২টার কিছু পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের মোহাম্মদ আরশ উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘ধর ধর’ বলে তাঁকে মারতে থাকেন। এ সময় তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাঁকে রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা। ছবি: দীপু মালাকার

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সেখানে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। তবে মোটরসাইকেলটি কার তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপসম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, ‘কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণার পর যাঁরা আন্দোলনে ছিলেন, তাঁরা পড়ার টেবিলে ফিরে গেছেন। কিন্তু একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁদের সাধারণ ছাত্ররা প্রতিহত করেছেন। আমরা প্রথমে ছাত্র, পরে ছাত্রলীগ। এ ঘটনা ছাত্রলীগ ঘটায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাঁদের প্রতিহত করেছেন।’

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের ঘোষণার আড়াই মাসেও কোটা সংস্কারের কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এ নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আজ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল।-প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*