বুধবার , ১৪ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

জুডিশিয়ারি লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি, বিষয়ঃ ফৌজদারি মামলায় আপীল সংক্রান্ত বিধান

আগস্ট ১৩, ২০১৮

বিডিলনিউজঃ

আজ ফৌজদারি মামলার আপীল সংক্রান্ত কিছু তথ্য দেওয়া হলো জুডিশিয়াল এর সিলেবাস ভুক্ত বিষয় এর উপর। এই পোস্টে ভিন্নতর কোন কিছু উল্লেখ না থাকলে সকল ধারা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

*** ফৌজদারি মামলার আপীল সংক্রান্ত বিষয় ৪০৪ থেকে ৪৩১ বলা হয়েছে।
**** রায়ের উপর ভিত্তি করে আপীল কে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
১। দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল।
২। খালাস এর বিরুদ্ধে আপীল।
৩। অপর্যাপ্ত দন্ডের বিরুদ্ধে আপীল।
**** ক্রোক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় ৪০৫ ধারার বিধান মতে আপীল করা যায়।
#### # কখন কোন আদালতে আপীল করা যায়????
**** যদি ম্যাজিস্ট্রেট ১১৮ ধারার অধিনে কোন আদেশ দেয় উক্ত আদেশ এর বিরুদ্ধে ৪০৬ ধারার অধিনে আপীল করা যায়।
**** ১২২ ধারার অধিনে যদি সি জি এম, সি এম এম বা ডি এম আদালত কোন আদেশ দেয় তার বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপীল করতে হয়। এবং যদি অন্য কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এর আদেশ এর বিরুদ্ধে সি এমম এম আদালতে এবং কোন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ এর বিরুদ্ধে CJM আদালতে আপীল করতে হয়।( ধারা ৪০৬ক)
**** ২য় বা ৩য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ এর বিরুদ্ধে আপীল করতে হয় CJM আদালতে। (ধারা ৪০৭)
**** প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা যদি যুগ্ম দায়রা জজ ৫ বছরের কম শাস্তি দিলে আপীল করতে হবে দায়রা আদালতে এবং দায়রা জজ, যুগ্ম দায়রা জজ ৫ বছরের বেশি শাস্তি দিলে বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট ১২৪ক ধারায় শাস্তিদান করলে উক্ত আদেশ এর বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে হাই কোর্ট বিভাগে। আদালতে।( ধারা ৪১০)
**** দায়রা আদালত আদালত, অতিরিক্ত দায়রা আদালত, যুগ্ম দায়রা আদালত মূল মামলা বা আপীল মামলার খালাস আদেশ এর বিরুদ্ধে পি.পি ৬ মাস অথবা ফরিয়াদি ৬০ দিনের ভিতরে হাইকোরট বিভাগে আপীল করতে পারবে। এছাড়া কোন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এর খালাস আদেশ এর বিরুদ্ধে পি.পি বা ফরিয়াদি ৬০ দিনের ভিতর দায়রা আদালতে আপীল দায়ের করতে পারবে। (ধারা ৪১৭)
**** মৃত্যুদন্ডদেশ এর বিরুদ্ধে ৭ দিনের ভিতরে আপীল দায়ের করতে হবে। (তামাদি আইন অনু: ১৫০)
*** খালাস এর বিরুদ্ধে ৬ মাসের ভিতর আপীল করতে হবে।
(তামাদি আইন অনু: ১৫৭) এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের ভিতরে।
*** মিৃত্যুদন্ড বা খালাস আদেশ ব্যাতিত অন্য সকল আদেশ এর বিরুদ্ধে ৬০ দিনের ভিতর আপীল রিভিশন করতে হবে।
(তামাদি আইন অনু: ১৫৫)
*** মিৃত্যুদন্ড বা খালাস আদেশ ব্যাতিত অন্য সকল আদেশ এর বিরুদ্ধে হাইকোরট ব্যাতিত অন্য আদালতে ৩০ দিনের ভিতর আপীল রিভিশন করতে হবে।
(তামাদি আইন অনু: ১৫৪)
**** অপর্যাপ্ত দন্ডের বিরুদ্ধে পিপি বা ফরিয়াদি ৬০ দিনের ভিতরে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারবে। (ধারা: ৪১৭ক)
**** অভিযুক্ত আদালতে দোষ স্বীকার করলে উহার উপর ভিত্তি করে আদালত শাস্তি দিলে উহার বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না। (ধারা: ৪১২)
**** তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে কোন আপীল চলে না। (ধারা: ৪১৩)
*** কখন কখন সংক্ষিপ্ত বিচার এর রায়ের ক্ষেত্রে আপীল চলে না। ( ধারা : ৪১৪)
*** কোন মামলার আপীল চলাকালীন সময় দন্ড স্থগিত থাকবে।( ধারা :৪২৬)
**** আপীল চলাকালীন সময় অভিযুক্ত মারা গেলে আপীল বাতিল। (ধারা :৪৩১)
**** আপীল লিখিত আকারে দায়ের করতে হবে।( ধারা: ৪১৯)
**** দায়রা আদালতে দায়েরকৃত আপীল দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ শ্রবণ করতে পারবে। (ধারা ৪০৯)
*** আপীল দায়ের কারী কারাগারে থাকলে কিভাবে আপীল করতে হবে উহা ৪২০ ধারায় বলা হয়েছে।
##### আপীল আদালতের এখতিয়ার :
**** ৪২১ ধারার অধিনে মামলা খারিজ করতে পারেন।
**** আপীল খারিজ না হলে ৪২২ ধারর অধিনে নোটিশ দিবেন।
*** ৪২৩ ধারায় আপীল আদালত এর ক্ষমতা বিস্তারিত বলা হয়েছে।

আলোচনার সারথে ৪২৩ ধারা হুবাহুব দেওয়া হলো।
%%%%%%%
ধারা ৪২৩। আপীল নিস্পত্তির ব্যাপারে আপীল আদালতের ক্ষমতা
(১) মামলার নথি পূর্ব হতে আদালতে না থাকলে আপীল আদালত উহা চেয়ে পাঠাবেন। অতঃপর নথি পাঠ করে এবং আপীলকারী বা তার কৌসুলী হাজির হলে তার বক্তব্য এবং পাবলিক প্রসিকিউটর হাজির হলে তার বক্তব্য শ্রবণ করে আদালত যদি মনে করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত যথেষ্ট কারণ নাই তাহলে আপীল খারিজ করতে পারবেন, অথবা
ক) খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে উক্ত আদেশ পরিবর্তন করতে পারবেন অথবা নির্দেশ দিতে পারবেন যে, অধিকতর অনুসন্ধান করতে হবে অথবা আসামীর পুনঃবিচার হবে অথবা তাকে বিচারের জন্য প্রেরণ করতে হবে, যেখানে যেরূপ প্রযোজ্য, অথবা তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আইন অনুসারে তাকে দণ্ড দিতে পারবেন:
খ) দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে (১) অভিমত ও দণ্ডাদেশ পরিবর্তন করতে পারবেন, এবং আসামীকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারবেন অথবা তাকে এরূপ আপীল আদালতের অর্ধস্তন উপযুক্ত এখতিয়ারবান কোন আদালত কর্তৃক পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারবেন, অথবা বিচারে প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন, অথবা (২) অভিমত পরিবর্তন করে অথবা দণ্ডাদেশ বহাল রেখে, অথবা অভিমত পরিবর্তন করে বা না করে দণ্ড হাস করতে পারবেন, অথবা (৩) দণ্ড এরূপ হাস করে বা না করে এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বা না করে দণ্ডের প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারবেন, কিন্তু ১০৬ ধারার (৩) উপধারার বিধান সাপেক্ষে দণ্ড বৃদ্ধি করতে পারবেন না;
(খ-খ) দণ্ড বৃদ্ধির জন্য আপীল করা হলে (১) সিদ্ধান্ত ও দণ্ড রদ করতে এবং আসামীকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে অথবা উপযুক্ত আদালতে তার পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারবেন, অথবা (২) অভিমত পরিবর্তন করে বা দণ্ডাদেশ বহাল রেখে, অথবা (৩) অভিমত পরিবর্তন করে বা না করে দণ্ডের প্রকৃতি অথবা পরিমাণ, অথবা দণ্ডের প্রকৃতি ও পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারবেন যাতে দণ্ড হাস বা বৃদ্ধি হয়।
(গ) অন্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে উক্ত আদেশ পরিবর্তন করে বিপরীত আদেশ দিতে পারবেন;
(ঘ) ন্যায় সংগত বা যথাযথ কোন সংশোধন করতে পারবেন অথবা কোন সংগত বা প্রাসঙ্গিক আদেশ দিতে পারবেন।
তবে শর্ত এই যে, দণ্ড বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কারণ দর্শবার জন্য আসামীকে সুযোগ দান না করে দণ্ড বৃদ্ধি করা যাবে না;
আরও শর্ত এই যে, যে দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে সেই দণ্ড বা আদেশ দানকারী আদালত একই অপরাধের জন্য আসামীকে যে দণ্ড দিতে পারবেন, আপীল আদালত তদপেক্ষা অধিক দণ্ড দান করবেন না।
%%%%%%

*** খালস আদেশ এর আপীল এর ক্ষেত্রে আপীল আদালত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবেন।
***** প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিতে পারবেন।

লেখকঃ নজরুল ইসলাম
শিক্ষার্থীঃ আইন বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*