খোকসার তরুন রাজনীতিক সৈয়দ আলী আহসান ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন কিনলেন

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ in রাজনীতি

 

ষ্টাফ রিপোর্টার:  রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রথমবারের মত জন প্রতিনিধিত্ব করার প্রয়াসে  খোকসা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন তরুণ প্রার্থী সৈয়দ আলী আহসান।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন তরুণ এই প্রার্থী সৈয়দ আলী আহসান। (বিএ,অনার্স। এম,এ) বাংলা সাহিত্য।

 

খোকসা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলতে এবারই প্রথম জনপ্রতিনিধিত্বের প্রয়াসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তরুণ এই সমাজসেক, রাজনীতিক, (৯৬ থেকে ২০০০) খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের অভিভাবক ছিলেন।

পরবর্তীতে খোকসা থানা আওয়ামী  যুবলীগের সাধারন সম্পাদক (২০০৩ হতে ২০১৭) পর্যন্ত সততা, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেই চলছেন। অগ্রদুত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি খোকসা উপজেলা।

 

তিনি খোকসা উপজেলার পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কৃতি সন্তান। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে চলছেন ২৬ বৎসর। রাজনৈতিক পরিচয়ও ব্যাপক জনতার মাঝে।

 

অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চাইতে বয়সে তরুন হলে ও এলাকার বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড ও নিরিহ মানুষের পক্ষে কথা বলতে কখনো পিছিয়ে নেই তিনি।

 

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে, সন্ত্রাস ও দূর্নিতি,বাল্যবিবাহ সহ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন,যুব সমাজের জন্যে কিছু করবেন,বলেন জানান তিনি।

কুষ্টিয়া-১ আসনে নৌকার কান্ডারী হিসেবে এ্যাডভোকেট হাসু এগিয়ে

অক্টোবর ১, ২০১৮ in গুণীজন, দেশ ও দশ, রাজনীতি

 

সিরাজ প্রামাণিক, কুষ্টিয়া থেকে: আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-১ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের বিকল্প প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে নাম সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক, দৌলতপুরের কৃতি সন্তান, ক্লিন ইমেজের তরুণ প্রজন্মের অহংকার, রাজপথের লড়াকু সৈনিক এ্যাডভোকেট হাসানুল আসকার হাসু’র নাম।

ভারতের কাটাতারের বেড়া সংলগ্ন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তি এই উপজেলায় বেশ জোরেশোরেই বইছে ভোটের হাওয়া। জেলার বৃহত্তম এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে নির্বাচনী আসন। কুষ্টিয়া-১ আসনে ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত বিএনপির দাপট থাকলেও এখন তা আগের মত নেই। আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান এমপি রেজাউল হক চৌধুরী ও সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন এক অপরের প্রতিদ্বন্দী। সেকারণ এলাকাবাসী এ দ্বন্ধ নিরসনে ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এ্যাডভোকেট হাসানুল আসকার হাসু’কে এমপি হিসেবে দেখতে চায়।

তাঁর রয়েছে রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবন। ১৯৮৭ সালে স্কুল জীবনে তিনি স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সরাসরি যোগদান করেন। ১৯৯১ সালে কলেজ জীবনে রাজশাহী সরকারী নিউ ডিগ্রী কলেজ শাখার ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ মতিয়ার হল শাখার সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। পড়াশুনা শেষে নিজ এলাকায় ফিরে এসে ২০০৪ সালে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ও ২০০৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। বর্তমান তিনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবেও রয়েছেন।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। দৌলতপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দৌলতপুর অনার্স কলেজের সভাপতি, বাহিরমাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, “ল-ইয়ার্স” ক্লাব কুষ্টিয়ার সাধারন সম্পাদক সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা সহ সেবা প্রদান করে আসছেন।

এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় সামাজিক ও আঞ্চলিক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাঁর চাচা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম আজিজুর রহমান আক্কাস। তিনি ছিলেন সাবেক এমএনএ ও এমপি (কুষ্টিয়া-দৌলতপুর) এবং কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সভাপতি। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি জামায়াত জোট কর্তৃক নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের আইনগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দলীয় কোন্দল নিরসনের জন্য জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হিসেবে দৌলতপুর উপজেলায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। সুবক্তা হওয়ার কারণে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো জনগণের মধ্যে ভালভাবে তুলে ধরতে সক্ষম। ব্যাপক প্রচারনার মাধ্যমে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডসমূহ জনগণের মধ্যে তুলে ধরেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে মানীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় অবস্থান ঘোষনার পর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তা সহ দলীয় নেতা-কর্মী এবং দৌলতপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক বিরোধী প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে মাদক নির্মূলে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে চলমান বিরোধের কারনে বঞ্চিত ও হতাশ নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ ও ভিশনকে বাস্তবায়ন করার লক্ষে সকল নেতা-কর্মীদের একত্রিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দলের নবীন ও প্রবীণ নেতা-কর্মী সহ তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম হয়েছেন। ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণ যোগ্যতার কারনে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগের ফলে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। তাছাড়া দৌলতপুর উপজেলার বৃহত্তর ফিলিপনগর ইউনিয়ন, রামকৃষ পুর ইউনিয়ন, প্রাগপুর ইউনিয়ন, চিলমারী ইউনিয়ন সহ মথুরাপুর ইউনিয়ন এলাকার জনসাধারণের আস্থাভাজন ও প্রিয় ব্যক্তি হওয়ায় আঞ্চলিকতার দিক থেকে অন্যন্য সকলদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন নৌকার কান্ডারী এ প্রার্থী।

সততা, দানশীলতা, মার্জিত ব্যবহার এবং সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য সাধারন জন সাধারনের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে দলীয় নেতা-কর্মীদের এবং সাধারন জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের কারনে এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি হিসেবে সমাজে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য।

এদিকে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিতেও প্রার্থী নিয়ে জট দেখা দিতে পারে বলে জানা গেছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে দলের একক প্রার্থী মনে করেন বেশির ভাগ নেতাকর্মি। তবে ২০০৮ সালে মনোনয়ন পাওয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন শেষ পর্যন্ত বাচ্চু মোল্লার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার মঙ্গল ও বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা আলতাফ হোসেন, এ্যাডভোকেট রমাজান আলী সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন।

বড় দুই দলের বাইরে জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী কুরবান আলীর ছেলে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক ফারিয়ার জামিল জুয়েল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া উপজেলা জাসদের (ইনু) সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম নির্বাচন করবেন।

ধর্ষণ মামলা পরিচালনার কলাকৌশল

বুক রিভিউ: ধর্ষণ মামলা পরিচালনার কলাকৌশল

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ in আইন পড়াশুনা, সদ্যপ্রাপ্ত

 

সাকিব আহমেদ:  আইন গবেষক, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিরাজ প্রামাণিক এর ২৫ তম আইনগ্রন্থ ‘ধর্ষণ মামলা পরিচালনার কলা-কৌশল’ বইটি আমি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আইনের ভাষা কিছুটা জটিল, তারপরও যথাসাধ্য চেষ্টা হয়েছে সহজ, বোধগম্য ভাষায় বইটি লেখার জন্য। লেখকের উচ্চতর গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান মন্ডল স্যারের নিকট থেকেও বইটি লিখতে ও প্রকাশ করতে অসাধারণ পরামর্শ এসেছে। ধর্ষণ মামলা সম্পর্কে জানতে বুঝতে বিচারক, আইনজীবী, আইনের ছাত্রসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের আইন সচেতন হতে এ বইখানি খুবই সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

মানব জাতির শুরু থেকেই ধর্ষণ সমস্যার সৃষ্টি এবং পৃথিবীর সব দেশেই এ সমস্যা কমবেশী বিদ্যমান। পুরুষ নারীকে আজো বস্ত, উপভোগ্যতম বস্তু বলেই গণ্য করে। দিকে দিকে তাকে নিষিদ্ধ করে রাখতে চায় এবং তার জন্য নিষিদ্ধ রাখতে চায় সব কিছু। এ বইয়ে একজন ধর্ষিতা নারীর আইনগত অধিকার; অন্যদিকে আসামীপক্ষের ডিফেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে দিক-নির্দেশনা অলোচিত হয়েছে। ধর্ষণ মামলা পরিচালনার যাবতীয় নিয়ম-কানুন, জামিন, জবানবন্দি, জেরা ও যুক্তিতর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে লেখক এ বইটি লেখার সাহস দেখিয়েছি।

বইটির ভূমিকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক মোঃ আব্দুল আজিজ মন্ডল লিখেছেন “কুষ্টিয়ায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় ¯েœহাস্পদ এ লেখকের সাথে আমার পরিচয়। সে সময় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় তাঁর আইনবিষয়ক গবেষণাধর্মী নিবন্ধ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে আইনের দুর্বোধ্য ভাষাকে প্রাণবন্ত করে উপস্থাপনের যে নৈপুন্যতা-তা রীতিরকম বিস্ময়ের দাবীদার”।

আমরা সবাই জানি মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইনের সৃষ্টি। মানব জাতির শুরু থেকেই নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছেন। পুরুষ শাসিত সমাজে ধর্ষিতার জন্য যেসব আইন রয়েছে; সেগুলোতে ধর্ষিতার অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা রীতিরকম দৃশ্যমান। এ বাস্তবতার নিরিখেই লেখকের এ বইটি। তাঁর লেখালেখির মধ্যে কোন অষ্পষ্টতা বা জটিলতা নেই। ফলে আলাদা করে লেখাগুলির ভূমিকা পাঠকদের কাছে একটা বাড়তি বোঝা মনে হতে পারে। আমাদের দেশে বাস্তব কেইস স্টাডি সম্বলিত শুধুমাত্র ধর্ষণের উপর আইন বইয়ের বেশ অভাব রয়েছে। তার উপর এ বিষয়ে উপমহাদেশের উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তগুলো একত্রে পাওয়াও দুঃসাধ্য ব্যাপার। এ বইটিতে লেখক অনেকটায় স্বতন্ত্র অবস্থান করে নিয়েছেন।

বইয়ের সন্নিবেশিত ধর্ষিতার জবানবন্দি, জেরা, যুক্তিতর্ক, জামিন, নালিশী আরজি ও বেশ কিছু নিবন্ধ আমার নজরে এসেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক বিষয়গুলির বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এক কথায় ধর্ষণ মামলা পরিচালনা কিংবা প্র্যাকটিস বুঝতে, শিখতে এবং তা আদালতে প্রয়োগ করতে কিংবা ধর্ষিতা নারীর অধিকার, মানবাধিকার এবং অভিযুক্ত পক্ষের ডিফেন্স নেওয়ার প্রশ্নে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর অনুকূলে যে নীতি ও আইন রয়েছে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বইটির ভূমিকা অপরিসীম।

দেশের অভিজাত লাইব্রেরীগুলোতে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি অধ্যায় আইনের গৎবাঁধা মারপ্যাঁচের শব্দ পরিহার করে সহজবোধ্য করে রচিত হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে দেখানো হয়েছে উদাহরণ। এতে আইনের বিষয়গুলো আর তাত্ত্বিক থাকেনি, হয়ে উঠেছে ব্যবহারিক। ফলে পাঠক সহজেই তাঁর সমস্যার সহজ সমাধান খুঁজে পাবেন। প্রতিটি বিষয়ে সর্বশেষ সংশোধনী থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। সুবিন্যস্তভাবে সাজানোর কারণে বিষয়গুলো হয়ে উঠেছে সাবলীল। আইনের ভাষা কঠিন, পড়ে বোঝা কষ্টকর এ ধারণা পাল্টে যাবে বইটি পড়লে। ধর্ষণ মামলা নিয়ে কোনো আইনি ঝামেলায় পড়লে কী করতে হবে, নিয়মকানুন কী, কোথায় যেতে হবে, কত খরচ হবে পাঠক খুব সহজেই এ বই থেকে পাবেন। ৫৫ গ্রাম অফসেট কাগজে ছাপা বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৮। মূল্য ২৫০ টাকা মাত্র। চমৎকার প্রচ্ছদ। বইটি পেতে যোগাযোগ করুন-০১৭১৬-৮৫৬৭২৮।

লেখকঃ এলএল.বি (অনার্স), এলএল.এম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), আইন গবেষক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রীতিরকম মুক্তচিন্তা বিরোধী

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ in মতামত, সর্বশেষ সংবাদ

 

এ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক: বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ১৯ সেপ্টেম্বর পাস হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮। আইনটি প্রস্তাবের পর থেকেই সাংবাদিক, আইনবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। এখন আইনটির অনেক ধারায় হয়রানি ও অপব্যবহার হতে পারে বলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আবেগ-উত্তাপ ও যৌক্তিক তর্ক-বিতর্ক এখনো চলছে, চায়ের দোকান থেকে টেলিভিশন টক শো ও পত্রিকার কলাম পর্যন্ত। সন্দেহ নেই আরো কিছুকাল চলবে। চলাটাই স্বাভাবিক।

এ আইনটিতে মোট ৪৮টি ধারা আছে। এর মধ্যে ১৭ থেকে ৪৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে। ডিজিটাল আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত, যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে সেই ব্যক্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নতুন এ আইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হয়ে উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষত সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ছবি তোলা, ভিডিও করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখানে বেআইনি শব্দটি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ এবং ফটো বা ভিডিওচিত্র ধারণকে বন্ধ করাই উদ্দেশ্য। এ ধরনের কাজকে গুপ্তচরবৃত্তি বা রাষ্ট্রদ্রোহ বলে তথ্য সংগ্রহের কাজটি আরও কঠিন করে ফেলা হয়েছে। এটা মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকিস্বরুপ। এতে করে সাধারণ মানুষ ভয়ে থাকবে এবং মুক্ত আলোচনা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আলোচনা করতে আর সাহস পাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নতুন আইনের ১৮ ও ১৯ ধারায় রীতিরকম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে অফিসে ঢুকে কেউ যদি তথ্য নেন, সে জন্য অন্য আইন আছে। কেউ যদি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ফাইল পাচার করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেন, তার জন্য ‘অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট’ আছে। কিন্তু নতুন আইনে আবার তা পূণ:প্রবেশ ঘটানো হয়েছে। ফলে কোনো সাংবাদিক এখন আর ‘স্টিং অপারেশন’ চালায় ঘুষ বা দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ যদি কোনো সরকারি বা আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হন আর তা যদি তিনি তার মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে আনেন, তবে তা প্রকাশ করতে পারবেন না। অর্থাৎ ঘুষ খেলেও তার তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। তাহলে পরিস্থিতি সুশাসনের বিপক্ষে যাবে। আর সাংবাদিকতা নিসন্দেহে অসুবিধার মুখে পড়বে।

তবে এ আইনের অনেক ভালো দিকের অন্যতম হচ্ছে দেশকে অপপ্রচার থেকে রক্ষা করা এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার প্রসার ঘটানো। আইনের ২১ ধারার ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার নামে প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা চালালে বা মদদ দিলে অনধিক ১৪ বছরের কারাদ- বা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ- রাখা হয়েছে। আর ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কিছু প্রচার বা প্রকাশ করলে অনধিক ১০ বছর কারাদ- বা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ-ই রাখা হয়েছে। ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ মানহানিকর কোনো তথ্য দিলে সেই ব্যক্তির তিন বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হবে।

বেআইনিভাবে কারোর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে তাকে সাত বছরের জেল ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ- দেওয়া হবে। এ ছাড়া বেআইনিভাবে অন্য সাইটে প্রবেশ করার পর যদি কেউ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত বিধান রাখা হয়েছে।

এ আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যদি জনগণকে ভয় দেখায় এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হবে। ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভয়ভীতি দেখায়, তাহলে তাকে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া যাবে।

নতুন আইনের আরও ভালো দিক হচ্ছে অনলাইনে কেনাকাটাকে সুরক্ষা দেওয়া। এ জন্য ৩০ ধারায় বলা হয়েছে, না জানিয়ে কেউ যদি কোনো ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংক-বীমায় ই-ট্রানজেকশন করেন, তাহলে তাকে পাঁচ বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া যাবে। ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে তাকে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া হতে পারে। এই আইনের ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৪ ধারার সব অপরাধ জামিন অযোগ্য। তবে ২০, ২৫, ২৯ ও ৪৮ ধারার সব অপরাধ জামিনযোগ্য।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। দেশের প্রতিটি সরকারই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম। প্রায় প্রতিদিনই কর্মক্ষেত্রে নানাভাবে লাঞ্ছিত-নিগৃহীত হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীরা। প্রতিটি সরকারের সময়ে, সব ধরনের পরিস্থিতিতে। কখনও শারীরিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, কখনও শিকার হচ্ছে হয়রানির। কখনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে, কখনও রাষ্ট্রের হাতে। স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নেমে আসে খড়গ। হামলা, মামলা, আর হয়রানিতে দুর্বিষহ করে তোলা হয় জীবন।

প্রতিটি সরকারের সময়কাল রঞ্জিত হয়েছে সাংবাদিকের রক্তে। অথচ শিল্প হিসেবে সংবাদমাধ্যমের বিকাশ ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিটি সরকারই থাকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু কোনো সরকারের হাতেই প্রণীত হয়নি একটি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন। এমনকি দেশে একের পর এক সাংবাদিক খুনের ঘটনা ঘটলেও কোনো খুনের বিচার প্রক্রিয়াই সুষ্ঠুভাবে এগোয়নি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি একটিরও। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও তেমন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সাংবাদিকতা পেশা ক্রমাগতই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথাগত দুঃখ প্রকাশ ও হামলাকারীদের শাস্তির আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য গণমাধ্যমের যেমন নিরপেক্ষতা দরকার। তেমনি স্বাধীনভাবে কাজ করার যাবতীয় সুবিধা দিতে হবে। তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। আর সুশাসন সুমন্নত অবস্থানে পৌঁছালে গণমাধ্যম বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ জন্য নতুন আইনে মিডিয়াকে সুরক্ষা দিতে হবে।

সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। অন্যসব আইনে যাই থাক, সংবিধানের আইনই অগ্রাধিকার পাবে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। ২ নম্বর ধারায় কিছু বিধিনিষেধ সাপেক্ষে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। ৩২ ধারা এই অনুচ্ছেদ ও ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অত্যন্ত দু:খজনক হলো, ধারাটি সুগ্রন্থিত নয়, অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক, অপব্যবহারযোগ্য, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং সর্বোপরি সংবিধানিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

যে আইন মানবাধিকার রক্ষা করতে পারে না, যে আইন ন্যায়পর নীতিমালা রক্ষা করতে পারে না, যে আইন সংবিধান সমুন্নত রাখতে পারে না, যে আইন সব স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা এবং পদ্ধতিগত সংহতি রক্ষা করতে পারে না, সেই আইন আর যাই হোক জনস্বার্থ রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে সক্ষম এ কথা বিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিক অবকাশ নেই।

প্রিয় পাঠক! আসুন আমরা একটি ইতিবাচক সংবাদের অপেক্ষায় থাকি। যেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকার পাতায় দেখতে পাবো ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যম প্রিয় হয়েছে।’ সেদিন আমাদের সংবিধানের শ্বাসত বাণী চিরন্তন রুপ পাবে। শুরু হবে নতুন এক যুগের।

লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও সম্পাদক-প্রকাশক ‘দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল’। Email:seraj.pramanik@gmail.com,  মোবাইল: ০১৭১৬-৮৫৬৭২৮