রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দূর্বল দিক

এপ্রিল ২৬, ২০১৮

বর্তমান সময়ের আলোচিত ফৌজদারী মামলা সমুহের বেশিরভাগ মামলা দায়ের হয়েছে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনে। এই আইনে মামলা দায়ের করার কারন হলো মামলা দ্রুত নিস্পত্তি, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সর্বোচ্চ বিচারিক আদালতে বিচার। এই বিশেষ আইনটিতে যুগোপযোগী কিছু বিধান করা হয়েছে যাতে মামলা দ্রুত বিচার নিস্পত্তি করা যায় আবার কিছু বিধান আছে যা দেখে মনে হবে আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য ঐ বিধান সমূহ সংযোজন করা হয়েছে, যেমন

এই আইনের
ক) ২৪ ধারার বিধান হলো (২৫ ধারার ব্যাতিক্রতম বাদে)- তদন্তকারী কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৭৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কাজ সমাপ্ত করবেন। তিনি যদি উক্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করতে ব্যার্থ হন তাহলে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত হবেন।

খ) ৩৩ ধারার বিধান হলো- অভিযোগ গঠনের পর সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার বিচার নিস্পন্ন করবেন। উল্লেখিত ধারা দুটি আইনটিকে যুগোপযোগি করেছে, যদিও ধারা দুটির প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট জটিলতা রয়েছে।

এই আইনের আর একটি উল্লেখযোগ্য ধারা হলো- ৪০ ধারা। এই ধারায় বলা হয়েছে “সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরিকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহন করিবেন না।”

এই ধারাটির প্রয়োগ ক্ষেত্রে যে দিকটি বেশী লক্ষনীয় তাহলো গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে এই ধারার দ্বারা সরকার মনিটরিং করতে পারে মামলার যথেচ্ছা তদন্ত ও বিচার।

কিন্তু এই ধারাটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ২৪ ও ৩৩ ধারার মতো কোন সময়সীমা নেই, অর্থাৎ ৪০ ধারা প্রয়োগ সরকারের ইচ্ছাধীন। সরকার ইচ্ছা করলে মামলা বিচার করার জন্য অনুমোদন দিতেও পারে আাবার নাও পারে, আবার বিচারের জন্য একদিনেও অনুমোদন দিতে পারে বা যতদিন পরে খুশি তত দিন পরে অনুমোদন দিতে পারে। এই ধারাতে আমলাতান্ত্রিক যথেচ্ছা ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ করা হয়েছে।

এখানে কথা হলো তদন্ত এবং বিচারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা আইনে উল্লেখ জরুরী হলে সরকারের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সময়সীমা আইনে উল্লেখ জরুরী নয় কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*