রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

পরিবেশ আইনের প্রয়োগ বিষয়ক নতুন কিছু নীতিমালা প্রয়োজন

জুন ৪, ২০১৮

বিডি ল নিউজঃ বাংলাদেশ সবুজ প্রকৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত এবং এই সবুজ প্রকৃতিই বাংলাদেশকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে বিভিন্ন ধরণের দুর্যোগ থেকে ।কিন্তু এই সবুজ প্রকৃতি ও এই প্রকৃতি বাঁচিয়ে রাখার প্রধানত উপাদান বিভিন্ন জলাধার কি আমরা সঠিকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে পারছি ? এক কথায় উত্তর দিতে গেলে “না” । ব্রিটিশদের শিল্পায়নে যখন ব্রিটিশরা ধুকছিলো ঠিক তখনই তারা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের আইন প্রনয়ন করে, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে এবং সঠিক উপায়ে শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যায় । ব্রিটিশরা যখন অনেক শিল্প থেকে বের হয়ে এসে অন্য শিল্পের দিকে গমন করেছে ঠিক তখনই অধিক দূষণ সমৃদ্ধ শিল্পগুলোর বিস্তার ঘটেছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে । তার সাথে বাংলাদেশও এখন শিল্পায়নে অনেক এগিয়ে ।শিল্পায়নে এগিয়ে যাওয়া যেমন সাধুবাদের তেমনি কিছু কিছু জায়গায় আমাদের হারানোটাও কম নয় । প্রাকৃতিক বৈচিত্রের এ দেশে বর্তমানে দূষণ নামক কড়াল গ্রাস এমনভাবে বেড়েছে কিছু কিছু অঞ্চলের মিঠা পানির মাছ এখন নদীতে বিলুপ্ত প্রায় । বাতাসের দূষণের কারণে ফল ধরার হার কমেছে অনেকাংশে, মানুষের ফুসফুসীয় রোগ ও কিডনি, যকৃতের রোগ বেড়েছে কয়েকগুণ পর্যন্ত !
শিল্পে আমাদের যেমনি এগিয়ে যেতে হবে তেমনি পরিবেশকে বাঁচানোর উদ্যোগও কিন্তু নিতে হবে খুব গ্রহনযোগ্য ও আইনগতভাবেই ।কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কোন কোন সময় অমনোযোগীতা, কোন কোন সময় না জানা এবং কোন কোন সময় অবহেলার কারণে পরিবেশ আজ বড়ই বিপদজনক অবস্থানে পৌছে গিয়েছে । পরিবেশ রক্ষার্থে আইন আছে অনেক কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাও কম নয় । সামনের দিনগুলোতে আমাদের পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য অনেক কাজ করতে হবে এবং দ্বিাধাহীনভাবে বলতে হবে পরিবেশ বাঁচলেই বাঁচবো আমরাও ।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত দুই তারিখ নদী পরিব্রাজক দলের উদ্যোগে আয়োজিত হয় গাজীপুরের নদনদীর দখল ও দূষণ রক্ষায় সেমিনার । সেমিনারে মান্যবর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন । গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন পরিবেশ বিষয়ক শিল্পের দখল ও দূষণ পসেঙ্গে কথা আসলেই উচ্ছেদ অভিযানের কথা চলে আসবে তার জন্য বাজেটের ব্যপার চলে আসবে এবং পরিকল্পনা ব্যপার চলে আসবে । এই বিষয়গুলো এক করে কাজ করা কখনও কখনও কঠিন হয়ে যায় । তিনি আরও বলেন যদি সব কিছুর মেল বন্ধন করা যায় তবে আমরাও অনিয়মগুলো দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারি । নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি বক্তব্যে বলেন নদীর মালিক জনসাধারণ সুতরাং তাদেরকেই নদী বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে । সর্বশেষ জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন বাজেটের ব্যবস্থা আমি করবো, অভিযানের সময় পাশে থাকবো তবুও নদীর দখল ও দূষণ দেখতে চাইনা ।
সেমিনারটির কথা টানলাম এই জন্যে যে নদী দখল ও দূষণ রোধে প্রায় সাতাশটি মন্ত্রনালয় ও বিভাগ একত্রে কাজ করলেও অনেক সময়ই সমন্বয়হীনতার জন্য কাজ সঠিকভাবে শেষ করা যায়না । যেমন একটি খাল খনন করা হবে সে খালে অন্য কোন শিল্পের সীমানা প্রাচীর রয়েছে এখন যদি সীমানা প্রাচীর ভাঙতে হয় তবে অবশ্যই সঠিক দালিলিক হিসেব প্রয়োজন হবে এবং এ সময় যদি শিল্প মালিকগণ আদালতে গিয়ে এ বিষয়ে রিট করে তবে কেটে যাবে আরও কিছুদিন এভাবেই সঠিক ভাবে, সঠিক সময়ে কাজ করা হয়ে ওঠে খুব জটিল প্রক্রিয়া ! খাল, নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কাজ করতে গেলে প্রয়োজন একক মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত ও সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজের জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে অর্থায়ন । যে যে শিল্প কারখানাগুলো ইতিমধ্যেই নদীগুলো দূষনের কারণ হয়ে আছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও জটিলতর কাজ । একটি প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ অধিদপ্তর সর্বোচ্চ যে সাজা দিতে পারে তা কিন্তু সমাধানের পথ উন্মোচন করে না । শুধুমাত্র জরিমানা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে কখনই দূষণ বন্ধে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে না । যারা শিল্পায়ন করছেন তাদের মানসিকতার পরিবর্তনের যেমন প্রয়োজন তেমনি জলাভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষন আইনকে সুসংহত করতে অবশ্যই প্রয়োগিক ব্যপাটি আরও গতিশীল করতে হবে । এর সাথে যদি এমন কিছু বাধ্যবাধকতার মধ্যে নিয়ে আসা যায় যে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান যেখানে শিল্প গড়ে তুলবে সেখান ভূর্গভস্থ পানি সে ব্যবহার করলেও অন্তত অর্ধক পরিমাণ পানি পূণরায় ব্যবহার করবে এবং আশপাশে কোন খাল থাকলে সেটা সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে তবে সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হতে পারে ।
নদী কমিশনের কাছে অনুরোধ থাকলো আইনকে সঠিক ব্যবহারের জন্য যাতে স্থানীয় প্রশাসন কোন দুর্নীতি গ্রস্থ শিল্পে কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সরাসরি নিতে পারে সে ব্যপারে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা পরিবেশ আইনের মধ্যে যুক্ত করা যায় কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে ।
সামগ্রিক পরিবেশ আইনের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পের বিকাশ হলে এদেশ যেমন বাঁচবে দূষণ থেকে তেমনি এদেশের শিল্পগুলো হয়ে উঠবে সারা বিশ্বের মডেল । আশা করি আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করণ ও আইনের কিছু পরিবর্তন এনে শিল্পগুলোকে সঠিকভাবে পরিবেশ উপযোগী করে চালনার ব্যপারে কাজ করতে পারলে শিল্পায়নে সবুজায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে সামনে দিনগুলোতে । এ ব্যপারে আইন মন্ত্রনালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সু-দৃষ্টি কামনা করছি ।

সাঈদ চৌধুরী
রসায়নবিদ
ও সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি
শ্রীপুর, গাজীপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*