বৃহস্পতিবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

পাখি শিকার বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন

নভেম্বর ৭, ২০১৮

বন্য প্রাণী, মাছ, পাখি অনেক বিলুপ্ত হয়ে গেছে । বিলুপ্ত প্রাণী ও পাখির সংখ্যা এখন যেভাবে বাড়ছে তাতে পরিবেশের হুমকি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই । বর্তমানের যে পরিসংখ্যান তাতে খুব চেনা প্রাণী ও পাখিগুলোও অনেক সময়ই দেখা যায় না । হারিয়ে যেতে থাকা প্রাণী ও পাখিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চেনা প্রাণী হল বানর, কাঠ বিড়ালি, বেজি ইত্যাদি ও পাখি হল, দোয়েল, টিয়া, বক, পেঁচা, ঘুঘু ইত্যাদি ।
কিছুদিন আগের একটি ঘটনা । শ্রীপুর উপজেলার একেবারে খুব কাছে একটি বাড়িতে প্রচুর বক বাসা বানিয়ে থাকে । একটি গাছে এত বকের সমারোহ যা কিনা অসাধারণ সৌন্দর্যের অবতারনা করেছিলো । হঠাৎ একদিন সকালে একজন আমাকে ফোন দিয়ে বললো “ভাই শ্রীপুরের বকের গাছটিতে বক নিধন চলছে” । আমি খুব গুরুত্বদিয়ে খবর নিয়ে দেখলাম আসলেই বক নিধন চলছে । খুব নির্মম ভাবে বকগুলোর বাসো ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে এবং গাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পায়তারা চলছে । সাথে সাথে আমি প্রথম আলো ও সমকাল সহ কয়েকটি সংবাদপত্রের সংবাদকর্মীদের এ বিষয়ে জানাই এবং পরে বন কর্মকর্তাকেও জানানো হয় । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয় ।ঐ দিনই প্রথম আলোর অনলাইনে সংবাদটি ফলাও করে আসে । তারপর অনেক কষ্টে বক মারা বন্ধ করা হয় । কিন্তু গাছটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় অনেক বকই এখন আর সেখানে বাসা বেঁধে থাকছেনা বা থাকতে পারছেনা !
বিষয়টি যথেষ্ঠ পরিতাপের । যেখানে একটি জায়গাকে নির্বাচন করে প্রাণী সংরক্ষন কঠিন হয়ে যায় সেখানে এমন প্রাকৃতিক জায়গাগুলোর অযতন সত্যিই ভাবনার কারণ ।
আরেকটি ঘটনা এই শ্রীপুরেই । শ্রীপুর বাজারের গরুহাটায় সন্ধ্যায় প্রচুর পাখির সমাগম হয় । পাখির সমাগম হলেই কিছু মানুষ পাখি মারার জন্য উঠেপড়ে লাগে । শ্রীপুর বাজারের এক যুবক মামুন প্রিয়া যিনি এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেন তিনি কিছু ছবি তুলে পাঠিয়েছেন । তার তথ্য মতে গুলাইল দিয়ে ও ফাঁদ পেতে সবার সামনেই পাখিগুলো শিকার করা হয়ে থাকে । এই পাখি শিকারে অংশ নেয় ছোট ছোট শিশুরাও !
এভাবে সবার সামনে পাখি শিকার সত্যিই খুব উদ্বেগের ।বন্য প্রাণী সংরক্ষন আইন আছে, আছে পাখি শিকার বন্ধে অনেক পদক্ষেপও । কিন্তু যে জায়গাটায় সমস্যা সেটা হল কেউ জানার আগেই বা অসচেতনতায় এক শ্রেণীর মানুষ পাখিগুলো নিধন করে চলছে ।
যে কোন ভাবে পাখি ও বন্য প্রাণী নিধন বন্ধ করতে হবে । শ্রীপুরের এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে এখনও প্রচুর পাখির আনাগোনা হয় । গুলাইল দিয়ে পাখি শিকার বন্ধে গুলাইল জাতীয় শিকার সরজ্ঞামের উপর সম্পূর্ণ নিষেধ্যাজ্ঞা আনতে হবে । যারা পাখি শিকার করছে তাদেরকে অবশ্যই পাখি শিকার বন্ধে আইনের আওতায় আনতে হবে ।
পাখিকে তাদের বিচরণের জায়গা দেয়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে পাখি অভয়ারণ্য স্থান গড়ে তোলার জন্য সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি । যদি একটি করে অভয়ারণ্য গড়ে তোলা যায় তবে সব ধরণের পাখি ঐ জায়গাতে স্থান নেবে এবং শিকার কিছুটা হলেও বন্ধ হবে । আশা করি এ ব্যপারগুলোতে সরকার ব্যবস্থা নেবে এবং বন্যপ্রাণী আইনের সঠিক প্রয়োগ ঘটাবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*