শনিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন

নভেম্বর ২৩, ২০১২

এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম:

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই অভিযোগে অন্য দুই আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আলামীনও লিখিত জবাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এই তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ নিয়ে অধিকতর শুনানির জন্য তারিখ ২৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনাল-১-এ উপস্থিত হতে পারবেন না। চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নাসিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দু’জন সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও বিচারপতি মোঃ আনোয়ারুল হক। বৃহস্পতিবার তাজুলের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তাঁরা তাজুল ইসলামের পক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ বিষয়ে আদেশের জন্য আরও সময় লাগবে। প্রয়োজনে আবার শুনানি গ্রহণ করা হবে। ট্রাইব্যুনাল এ সময় রেফারেন্স হিসেবে দেশী-বিদেশী নজির দিয়ে সাহায্য করার কথা বলেন।
প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল ১৬ কোটি মানুষের আশা আকাক্সক্ষার স্থান। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ট্রাইব্যুনালের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছি। তিনি বলেন, ওই দিন আদালতের সঙ্গে এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম যে আচরণ করেছেন তা নজিরবিহীন। এশিয়া মহাদেশের কোন আদালতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে শুনানির দিন তা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করতে ব্যারিস্টার রাজ্জাককে নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউটর বলেন, ক্ষমা করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে, ওই দিন আদেশও দেয়া হতে পারে।৫ নবেম্বর আদালত অবমাননার ঘটনায় তাজুলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠলে ৬ নবেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ ২২ নবেম্বর পর্যন্ত তাজুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাস কক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাজুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আলামীনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ১১(৪) ধারা অনুযায়ী ‘কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না’ এবং ‘তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না’ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
এর আগে আরেকটি ঘটনায় ২৩ অক্টোবরও ট্রাইব্যুনাল-১ তাজুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কারণ দর্শাও নোটিস জারি করে ৫ নবেম্বরের মধ্যে তাঁকে নোটিসের জবাব দিতে বলেন। ওই দিন সকালে মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের প্রথম সাক্ষী মিছবাহুর রহমানের জেরাকালে তাজুল ইসলাম রাগ করে আদালত কক্ষ ত্যাগ করায় ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেয়।
বৃহস্পতিবার (২২ নবেম্বর) ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী তাজুল ইসলামের পক্ষে দু’টি অভিযোগের শুনানিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন এবং জামায়াতের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তাজুল ইসলামের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এছাড়া ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তাজুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আলামীনের কারণ দর্শাও নোটিসের লিখিত জবাব পড়ে শোনান। লিখিত জবাবেও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন আসামিপক্ষের ওই তিন আইনজীবী।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন,‘অভিযুক্ত আইনজীবী আমাদের জুনিয়র কলিগ। তাঁর অভিজ্ঞতা কম। তাঁর হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আদালতের ইজ্জত, আমাদেরও ইজ্জত। তাজুল ইসলাম প্রচুর ভুল করেছেন, যা তার করা উচিত হয়নি। তাঁকে শেষবারের মতো ক্ষমা করে দিন।’ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বলেন, তাজুলের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আপনারা চাইলে তাঁকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। তাঁকে ক্ষমা করে না দেয়া হলে আসামি আইনগত সহায়তা পাবেন না। এই আইনজীবীর জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আদালতের মহানুভবতা ছাড়া নরম-গরম সাবমিশন দিয়ে ক্ষমা পাওয়া যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*