শুক্রবার , ১৬ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

রিমান্ড, জামিন নামঞ্জুরঃ আসিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

জুন ৬, ২০১৮

বিডি ল নিউজঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফকে মগবাজারে তাঁর অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে। আজ বুধবার আসিফকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়েছে। বেলা দুইটার দিকে তাঁকে আদালতে তোলা হয়। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। এর আগে আজ বুধবার সকালে আদালতে আসিফ আকবরকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) প্রলয় রায়। রিমান্ডের আবেদনে প্রলয় রায় জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এ ঘটনার মূল হোতাকে খুঁজে বের করার জন্য আসামি আসিফকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সহযোগীদের নাম ও ঠিকানা জোগাড় করার জন্য আসিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। এ ছাড়া এই কাজে ব্যবহার করা ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের পরিচিতি এবং আসিফের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানার জন্য তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, শফিক তুহিন তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আজ বুধবার সকালে আদালতে নেওয়া হবে। পরে আজ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গায়ক প্রিতম ও গায়ক শফিক তুহিন তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। আজ আসিফকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।

মামলার এজাহারে শফিক তুহিন উল্লেখ করেন, আমি গত ২০ বছর ধরে সংগীত পেশায় গীতিকার, সুরকার ও কন্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করছি। প্রায় সহস্রাধিক সংগীতকর্ম আমার রচনায় এদেশে প্রকাশিত হয়েছে, উল্লেখ্য আমার কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ আমি সেরা গীতিকার হিসেবে ২০১১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারসহ বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় অর্ধশতাধিক পুরষ্কার অর্জন করেছি। গত ১ জুন আনুমানিক রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪-এর সার্চলাইট নামক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারি যে, আসিফ আকবর ও তার সহকারীরা তার অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছে। এর মধ্যে আমার রচিত গান- এইতো জীবন/বেদনাতে নীল/ অভিমানী/স্বার্থপর/কাঁদলাম আমি(শফিক তুহিন) কাঁদলামসহ প্রায় শতাধিক। পরে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে জানতে পারি, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লিমিটেড গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।

এজাহারে তিনি আরও বলেন, পরে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। পরের দিন রাত ৯ টা ৫৯ মিনিটে আসিফ আকবর তার প্রায় ৩২ লাখ লাইকার সমৃদ্ধ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। ৫৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড লাইভ ভিডিওর ২২ মিনিট থেকে তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন। ভিডিওতে আসিফ আকবর তাকে (শফিক তুহিন) শায়েস্তা করার কথা বলার পাশাপশি ভক্তদের যেখানে অমাকে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা পেয়ে আসিফ আকবরের ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এছাড়া বিষয়টি সংগীতাঙ্গনের সুপরিচিত শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার প্রীতম আহমেদসহ অনেকেই জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*