রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

আজ ডিসি সম্মেলন শুরু, গুরুত্ব পাবে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন

জুলাই ২৪, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক বা ডিসি সম্মেলন শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পাবেন ডিসিরা।

সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি কাজ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আইনি সুরক্ষাসহ আরও বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্মেলনে আলোচনা করা হবে। এছাড়া চলমান মাদকবিরোধী অভিযানসহ বন্যা, বাঁধভাঙা ও পাহাড়ধস নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ডিসিদের ৩৪৭টি প্রস্তাব থাকছে। ডিসিদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া প্রশাসনকে গতিশীল করতে ও তৎপরতা বাড়াতে তিনি ডিসিদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেবেন। ডিসি সম্মেলন মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সম্মেলন। এখানে ডিসিরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে পারেন।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেন। এরপর সভা থেকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও ডিসি সম্মেলনে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের সুপারিশ করা হবে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অধিবেশন।

এবার সম্মেলনে ২২টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ১৮টি, এছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান একটি সমাপনী অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।

২৬ জুলাই সম্মেলন শেষ হবে জানিয়ে সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশনগুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৪৭টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, এর বাইরেও জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক কোনো প্রস্তাব থাকলে তা অধিবেশনে উপস্থাপিত হতে পারে। এ বছর সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব পাওয়া গেছে ভূমি মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত।

মাদকের বিষয়ে ডিসিদের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বলেন, প্রস্তাব বলে এগুলো বলতে পারছি না, সিদ্ধান্ত হলে জানাব। নির্বাচন সামনে রেখে সম্মেলন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছর সাধারণত এ সময়েই সম্মেলন হয়। এর সঙ্গে নির্বাচন কোনোমতেই সংশ্লিষ্ট নয়।

জিয়াউল আলম আরও বলেন, আমরা আশা করছি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে মাঠের যে কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকরা আছেন তারা পরিচিত হবেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সরকারের দিকনির্দেশনা সরাসরি এখান থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যে নতুন নতুন নীতি-কৌশল বা নীতিমালা জারি হয়েছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকরা সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবেন।

এ অবহিতকরণের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে যেসব মন্ত্রণালয় বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তার আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিসিদের সহযোগিতা ওনারা চাইতে পারেন। এর মাধ্যমে সরকারের গৃহীত সব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ ত্বরান্বি^ত হবে বলে আমরা মনে করি।

গত বছর ডিসি সম্মেলনে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছরের ডিসি সম্মেলনে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সমন্বিত হার ৯৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এ/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*