বৃহস্পতিবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

ডিআইজি মিজানকে ফের দুদকে তলব

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই দিন তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে তাকে হাজির হতে বুধবার দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর সই করা নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, একই দিন ডিআইজি মিজানের সঙ্গে তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৯ জুলাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক। গত জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে আরেক নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই এক নারী সংবাদ পাঠককে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শতকোটি টাকার মালিক হন বলে দুদকে অভিযোগ আসে। এ অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে দায়িত্ব দেয় দুদক।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৩ মে মিজানকে প্রথম দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার সাভারে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে তার নিজের নামে পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় ৫ কাঠা, পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির অধীনে অ্যাডভান্স পুলিশ টাউনে সাড়ে ৭ কাঠার প্লট ছাড়াও বরিশালের মেহেদিগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ৩২ শতাংশ জমিতে ২৪০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে এসেছে।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজান স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল মডেল টাউনে ১৭৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ৬৩ লাখ ৯০ টাকায় কিনেছেন বলে দুদকে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া মিজানের ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান স্বপনের নামে রাজধানীর নিউ বেইলি রোডে ২৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

মেহেদিগঞ্জে ওষুধ ব্যবসা করে মাহবুবুর ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৪০ টাকা দিয়ে এ ফ্ল্যাট কিনলেও এতে তার বড় ভাই মিজানের বিনিয়োগ থাকতে পারে বলে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়। মিজানের ভাগ্নে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার এসআই মাহামুদুল হাসানের নামে নগরীর পাইওনিয়ার রোডে ১৯১৯ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

২০১৬ সালের আগস্টে তিনি এসআই পদে যোগ দেয়ার আগে ৬৬ লাখ ১৮ হাজার ৮০ টাকা দিয়ে এ ফ্ল্যাট কেনা হয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে মিজানুর রহমানের বিনিয়োগের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*