বৃহস্পতিবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

রংপুরের আদালতে ব্যারিস্টার মঈনুলকে ডিম ও জুতা নিক্ষেপ

নভেম্বর ৪, ২০১৮

রংপুর প্রতিনিধি: মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্য করায় মানহানির মামলায় গ্রেফতার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে রংপুরের আদালত চত্বরে নিয়ে গেলে সেখানে ডিম ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানহানি মামলায় গ্রেফতার ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে জামিন শুনানির জন্য রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালাতে নেয়া হলে এ ঘটনা ঘটে।

রংপুর যুব মহিলালীগের কর্মী মিলি মায়া বেগমের দায়ের করা মামলায় আদালতে ব্যারিস্টার মঈনুলকে হাজির করার সংবাদে সকাল ৯ টা থেকে রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গেটে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দুপুর একটা ২০ মিনিটে জামিন শুনানি শেষে মঈনুলকে নিয়ে যাওয়ার সময় ফের তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতা ছুড়তে থাকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় অন্য মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসা বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে আদালত চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এসময় তারা মঈনুলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী তুহিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেয়।

অপরদিকে আজ আদালতে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের জামিন শুনানি শেষ হলেও আদেশ পরে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পিপি আব্দুল মালেক। এর আগে শনিবার বিকেলে শুনানি উপলক্ষে ঢাকা থেকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৬ অক্টোবর রাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। এ ঘটনায় রংপুরের মানবাধিকারকর্মী মিলি মায়া বাদী হয়ে গত ২২ অক্টোবর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে ওইদিন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা। ফলে ওইদিন রাতেই ঢাকায় গ্রেফতার হন ব্যারিস্টার মঈনুল। পরে ২৫ অক্টোবর তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালতে নথি না আসায় শুনানি স্থগিত করে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন বিচারক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*