রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

অর্থ ও মানব পাচার: স্ত্রী-কন্যাসহ এমপি পাপুলের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থ পাচার ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম ওরফে এমপি পাপুলের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিন প্রধানকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ দূত মারফত পাঠানো চিঠি গ্রহণ করেছেন পাপুলের স্ত্রী।

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি দেওয়া হয়নি বিভিন্ন তথ্য চেয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা কমিশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন চিঠি দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, দুদক থেকে পাঠানো চিঠি পাপুলের গুলশানে আবাসিক ঠিকানা ও লক্ষ্মীপুরের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে নথিপত্র পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। দুদকের পাঠানো চিঠি পাপুলের স্ত্রী গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।

কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার বিস্তারিত নাম-ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, পরিবর্তিত ও অপরিবর্তিত ঠিকানা দিতে বলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, হুন্ডি ব্যবসা ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

গত শনিবার রাতে কুয়েতের মুশরিফ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েত সিআইডি। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সোমবার তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় কুয়েতের আদালত। কুয়েতে মুদ্রা ও মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কুয়েতি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী পাঁচ বাংলাদেশি। সাক্ষীদের সবাইকে কুয়েতে নিয়েছিলেন পাপুল। কুয়েতি আদালতকে তারা বলেন, কুয়েত আসার এজন্য তারা পাপুলকে তিন হাজার কুয়েতি দিনার করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর আকামা নবায়নের জন্য দিয়েছেন ৩০০ দিনার বা তারও বেশি।

কুয়েতি আদালতে তার প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মীর দেওয়া সাক্ষ্য অনুসারে জানা যায়, কুয়েত আসার জন্য তারা পাপুলকে তিন হাজার কুয়েতি দিনার করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর আকামা নবায়নের জন্য তারা পাপুলকে ৩০০ দিনার প্রদান করেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, হুন্ডি ব্যবসা ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। আর গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

সম্প্রতি কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যম মানব ও অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ এমন কয়েকশ ব্যক্তির তালিকা করেছে কুয়েত সরকার। সেই তালিকা ধরেই বিতর্কিত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই গ্রেপ্তার হন এমপি পাপুল।

এদিকে সংসদ সদস্য কাজী মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের কর্মকাণ্ডে বিব্রত বোধ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সরকার। মুদ্রা ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাপুলকে দেশটির মুশরিফ গ্রেপ্তার করে। একজন সংসদ সদস্য হয়ে মুদ্রা ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে সরকারকে।

বিদেশের মাটিতে এমন কাণ্ডে জড়িত এসব ব্যক্তির কারণে দেশের সুনাম ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা। তবে একজন বর্তমান সংসদ সদস্যের স্ত্রীও কিভাবে সংরক্ষিত আসনে এমপি হন-তাও ভাবাচ্ছে সরকারের ঊর্ধ্বতনদের। পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য (৩৪৯ সংরক্ষিত আসন) সেলিনা ইসলাম।

পাপুলকে কুয়েতে আটক করার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। তার মতে, সারাবিশ্ব যখন মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এ সময় এমন অভিযোগে এমপি আটকের খবর অনভিপ্রেত। তিনি বলেন, এ অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে খুবই দুঃখজনক। বিদেশে গিয়ে একজন এমপি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা এতে লজ্জিত।

জানা যায়, দলীয় এমপি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পিছু ছাড়ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। দলের কোনো এমপি বা মন্ত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের রেশ না কাটতেই অন্য একজন একই ধরনের ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ধারাবাহিক এসব কর্মকাণ্ড ভাবমূর্তি নষ্ট করছে সরকারের আর দলকে ফেলছে ইমেজ সংকটে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস ও আরব টাইমস বাংলাদেশের এক এমপিসহ তিন মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কুয়েতের সিআইডির বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্যসহ তিনজনের ওই চক্র অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাঠিয়ে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

লেখক পরিচিতি

Responses