বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

আবারও ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা পুরনো জেএমবির

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
অস্ত্র আইনের মামলায় খোকনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট

আগের মতো আবারও ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুরনো জেএমবি বা জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে দেশ-বিদেশ থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমে আসায় সাংগঠনিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হওয়া মোজাফফর আলী ওরফে শাহীন নামে জেএমবির ডাকাত দলের এক সদস্যকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য জানা গেছে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে শাহীন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবির পুরনো অংশের সদস্যরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। আত্মগোপনে থাকা সংগঠনের শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন বিভিন্ন মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সালেহীন দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে আত্মগোপন করে আছেন বলে পুলিশের ধারণা।

BD Law Academy
বিজ্ঞাপন

কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুরনো জেএমবি আগেও ডাকাতি করে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছে। মাঝখানে কিছুদিন তারা নিষ্ক্রিয় ছিল। তারা আবার ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমরা ডাকাত দলের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছি। তার সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৯ সালে পুরনো জেএমবিতে যোগ দেয় শাহীন। প্রথম থেকেই সে দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি সংগঠনে অর্থ সংগ্রহের জন্য দায়িত্বশীল ছিল। তার আপন ছোট ভাই আল-আমিন ২০১৪ সালের মার্চে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জেএমবির শীর্ষ তিন নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি। আল আমিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই শাহীন পলাতক ছিল।

সম্প্রতি তাকে সংগঠন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেএমবির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা মোতাবেক শাহীন একটি ডাকাত দল গঠন করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছে, তাদের ভাষায় ‘কাফের-মুশরিক’ বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের অর্থ ডাকাতি করে তা সংগঠনের জন্য খরচ করা জায়েজ। একারণে তারা আগের মতো আবারো ডাকাতি করার জন্য মাঠে নেমেছে।

মোজাফফর আলী ওরফে শাহীন জঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কর্মকর্তারা বলছেন, সাংগঠনিকভাবে আত্মপ্রকাশের পর প্রথম থেকেই অর্থ সংগ্রহের জন্য জেএমবি ডাকাতি করতো। ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তারা ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এনজিও এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের কার্যালয় বা বাসায় ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ করতো। মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডাকাতি বন্ধ ছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল পুরনো জেএমবির একটি দল আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতি করে প্রায় সাত লাখ টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতারের পর জানা যায় তারা সবাই পুরনো জেএমবির সদস্য। অর্থ তহবিল মজবুত করার জন্য তারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে ব্যাংক ডাকাতি করেছিল। ওই ঘটনার আগে-পরেও জেএমবির সদস্যরা ছোট-খাটো একাধিক ডাকাতি করেছে।

BD Law Academy
বিজ্ঞাপন

তবে গত কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে ডাকাতি বন্ধ ছিল।কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আগে সদস্যদের ইয়ানত বা মাসিক চাঁদা এবং দেশি-বিদেশি সমর্থকদের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করতো। বর্তমানে বিদেশ থেকে আর্থিক অনুদানের বিষয়ে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে। একারণে আর্থিক অনুদান আসা কমে এসেছে। এছাড়া জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে সাংগঠনিকভাবেও ইয়ানত বা চাঁদা সংগ্রহের হারও কমে এসেছে। একারণেই আবারও ডাকাতির পরিকল্পনা করেছে তারা।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পুরনো জেএমবি এখনও সংগঠনের সদস্য কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে বা অভিযানে নিহত হয়েছে এমন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীলদের মাসিক খরচ দিয়ে থাকে। একইসঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে তাদের জন্য উকিলের খরচ এবং জেলে থাকা সহযোগীদের সুবিধার জন্য সাংগঠনিকভাবে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। এছাড়া সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলেও অর্থ একটি বড় বিষয়। একারণে যে কোনওভাবে অর্থ সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা পলাতক সালাউদ্দিন সালেহীন এখন জামায়াতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া বা জেএমআই নামে আরেকটি সংগঠন করেছেন। যদিও গত বছর ভারতেও এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আত্মগোপনে থেকেই ভারতে এই সংগঠন ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ভারতে দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর বাংলাদেশে ফেরা চার জেএমবি সদস্যকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি। তাদের কাছেও ভারতে সাংগঠনিক তৎপরতার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইমরান হোসেন জানান, শাহীন ঢাকার উপশহর আমিনবাজার ও রাঙামাটিতে আত্মগোপনে থেকে সাংগঠনিক কাজ করে আসছিল। তার কাছ থেকে তার সহযোগী কয়েক জনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

Responses

লেখক পরিচিতি