সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

কেন লিখিত পরীক্ষা বর্জন করছে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা??

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

 

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের লিখিত পরীক্ষা বর্জন করার কারণঃ—

১)**সাপেক্ষ ** শব্দের অর্থ Contingent that means subject to chance আমরা যদি এর Synonyms দেখি তাহলে পাবো wildcat,Unsure,Unpredictable, Dicey,Disputable, Branching Indifinite,Probable ইত্যাদি, পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা যদি থাকে তাহলে ডেট দিল কেন??

অনিশ্চিত হয়ে পৃথিবীর কোন কর্তৃপক্ষ এরকম কোন পরীক্ষার ডেট দিয়েছে কিনা? তা আমাদের জানা নেই। একজন শিক্ষানবিশ আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যে থাকে সেই আইনজীবী বাংলাদেশে এসে পরীক্ষা দিতে হলে এই অনিশ্চিত ডেটের উপর ভিত্তি করে সে কিভাবে ভিসা প্রসেসিং করবে? কারণ পরীক্ষা যদি না হয় তাহলে তার সময় অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটার দায় নেবে কে?

২) বিজ্ঞ আইনজীবী আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন নজিবুল্লাহ হিরু স্যার ২০১৭ সালের রিভিউ আন্দোলনের সময় স্বীকার করেছিলেন যে রিটেনের খাতা পরিবর্তন( চুরি)হওয়ার সুযোগ আছে তাই ওএমআর পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু বার কাউন্সিল শিক্ষানবিশদের আদৌ নিশ্চিত করেনি ওএমার পদ্ধতি চালু করবে কিনা??

৩)বাংলাদেশের প্রত্যেক পরীক্ষায় রিভিউয়ের সুযোগ আছে এটা একজন পরীক্ষার্থীর অধিকার যে তার নিজের খাতা রিভিউ করতে পারবেন,” ও লেভেল “এবং “এ লেভেলে” আমরা দেখি যে পরীক্ষার ফলাফল হুবহু লিখিত খাতাই পরীক্ষার্থীর ইমেইলে সেন্ড করে যাতে পরীক্ষার্থী তার খাতা দেখে ভুলত্রুটি নিশ্চিত করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী তারা সংশোধিত হয় এবং কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন। তাহলে বার কাউন্সিল কেন জবাবদিহিতার আওতায় আসতে চায় না??
রিভিউ এর মত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার থেকে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদেরকে বঞ্চিত করতে চায় এটা কার স্বার্থে??

৪)২০১৭ সালে যারা MCQ পাস করে এবং রিটেনে ফেল করে তাদের ২০১৮ সালের মধ্যে রিটেন ও ভাইভা সম্পাদন করে তাদেরকে সনদ প্রদান করা তাদের অর্থাৎ বার কাউন্সিলের নৈতিক দায়িত্ব ছিল আপিলেড ডিভিশনের জাজমেন্ট অনুযায়ী,পরীক্ষা নিতে পারেনি এই দায়ভার কেন শিক্ষার্থীরা বহন করবে??
২০১৭ সালের আপিলেড ডিভিশনের রায় অনুযায়ী ২০১৭  ব্যাচ সনদ পাবে এবং দুই বছরের নষ্ট করার জন্য ক্ষতিপূরণ ২০১৭ সালের MCQ পাশকৃত শিক্ষানবিশ হকদার।

৫) ২০২০ সনের পরীক্ষার্থী তারা ২০১৮ সালের পরীক্ষার্থী থাকতো তাহলে তাদের পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যর্থতার কারণে জীবন থেকে দুবছর সময় নষ্ট হয়েছে এবং তারা বার কাউন্সিলের জীবনের সবচেয়ে কঠিন এমসিকিউ পাস করেছে তাই তারা এক বছরের ক্ষতিপূরণ সহ সনদ পাওয়া তাদের হকদার।

৬)বার কউন্সিল ২৬.০৭.২০২০ তারিখে “বা.বা.কা/এনরোল/৯৩৩” স্মারকনং এর মাধ্যমে শিক্ষানবিশদের কে জ্ঞাত করে ২৬.০৯.২০২০ তারিখে লিখিত পরীক্ষা হল পাওয়া সাপেক্ষে অনুষ্ঠিত হইবে।

কিন্তু ২০১৭ সালের যারা এম সি কিউ পাস করেছিল তাদের পরীক্ষার ব্যাপারে স্পষ্ট পরীক্ষা দিতে পারবে না বলে উল্লেখ করে কিন্তু উল্লেখ করে যে গেজেট সংশোধন সাপেক্ষে পরীক্ষা দিতে পারবে অথচ বার কাউন্সিল ২০১৮ সালের গেজেট সংশোধনের জন্য ২৬.০৭.২০২০ অর্থাৎ একই তারিখে আইন মন্ত্রণালয় একটি চিঠি পাঠায় যার স্মারক নং বিবিসি /প্রশাসন/ডিও/৯২৯ (৩)সেটা বর্তমান শিক্ষানবিশদের কাছে গোপন রাখে এবং সেই চিঠিতে পরীক্ষার ডেট স্পষ্ট করে না লিখে আসন্ন পরীক্ষা ২০২০ সাল উল্লেখ করে, পরীক্ষার নোটিশ লিখা যেত না যে আমরা সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি তাহা পাস হওয়া সাপেক্ষে ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষানবিশ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে??

এখন প্রশ্ন হলো
…………………..

১)কেন এত লুকোচুরি ছলচাতুরি??
২)কেন আমাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো??
৩) কেন আমাদের জীবন থেকে সময় নষ্ট করা হলো??
৪) আমাদের পরিবার যে তিন বছর দুশ্চিন্তা ছিল এবং এখনও আছে এর দায়ভার কার??

৫)রিটেন পরীক্ষা হলেও এর রেজাল্ট এর পর ভাইভা সব মিলিয়ে আরো দেড় বছর, তাহলে মোট চলে যাচ্ছে পাঁচ বছর এই সময়ের মূল্য বার কাউন্সিল কিভাবে দিবে???

৬)আমাদের অযোগ্যতা কোথায় যে আমরা সনদ পাবোনা?? সঠিক সময়ে পরীক্ষা না নেওয়ার দায়ভার কি আমাদের কাঁধে?????

 

লেখক পরিচিতি

Responses