বুধবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

জাল দলিলের শাস্তির ধরন 

জাল দলিলের শাস্তি
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দলিল দ্বারা কি বোঝায়?

দলিল শব্দটি শুনলেই আমাদের স্মরনে আসে লিখিত কোন নথিমালা। যার মাধ্যমে কোন সম্পদ বা বস্তুর উপর সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা পক্ষসমূহের আইনি অধিকার নিশ্চিত হয়ে থাকে। দলিল লেনদেনের একটি মাধ্যম। কারন, লেনদেনের ক্ষেত্রে দলিল এর ব্যবহার ছাড়া এর সুনির্দিষ্ট গ্রহনযোগ্যতা প্রমাণিত হয়না।

দলিল অনেক সময় জাল হয়ে থাকে। কারন, অসাধু ব্যক্তিবর্গ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অনৈতিক পন্থা ব্যবহার করে থাকে। তবে এর রয়েছে উপযুক্ত জাল দলিলের শাস্তির ধরন এর বিধান।কারন জাল দলিল ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃংখলা ভংগের কাজে নিয়োজিত করা হয়ে থাকে।

জাল দলিলের শাস্তি
জাল দলিলের শাস্তি

জাল দলিলের শাস্তির ধরন

  • যদি কোন ব্যক্তি জানতে পারেন যে তার জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কেউ জাল দলিল রেজিস্ট্রেশন করেছে তবে সম্পত্তির মালিক জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারার দিন হতে সর্বোচ্চ তিন বৎসরের মধ্যে নির্ধারিত কোর্ট ফী প্রদান করে জাল-দলিলকারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতীকার আইনের ৩৯ ধারায় জাল-দলিল বাতিলের এবং একইসাথে ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।
  • বাদী দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৩-৪৭৩ ধারায় শাস্তির প্রার্থনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে বাদীকে দণ্ডবিধির ৪৬৩ ও ৪৬৪ ধারা মোতাবেক অপরাধ প্রমাণ করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জাল দলিলকারীর ৪৬৫ ও ৪৬৬ ধারানুযায়ী দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

অভিযোগ দাখিলের নিয়মঃ

  • সম্পত্তির মালিক একাধিক হলে তাদের সবাই বা তাদের পক্ষ থেকে যেকোন একজন মোকদ্দমা করতে পারবেন।
    যদি সম্পত্তির মালিক নাবালক হয় তবে তার বৈধ অভিভাবক মোকদ্দমা করতে পারবেন অথবা নাবালক ব্যক্তি সাবালক হওয়ার পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে পারবেন।
  • তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে জাল-দলিল বাতিলের আদেশ দিয়ে রায় প্রদান করলে রায়ের একটি কপি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণ করবেন। সাব রেজিস্ট্রি অফিস আদালতের আদেশ অনুযায়ী জাল-দলিল বাতিলের বিষয়টি রেজিস্ট্রি বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।
  • তবে দলিল জাল না হয়ে যদি এমন হয় যে প্রকৃত দলিলেই কোন ভুলভ্রান্তি হয়েছে সেক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে ভুল সংশোধনের মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

জমির দলিল জাল হলে যেমন সমস্যায় পরতে হয় তেমনি এর থেকে সমাধান এরও পথ রয়েছে। কারন আইনের চোখে অন্যায় দেখা মাত্রই আইন তার স্বাভাবিক নিয়মে এর সমাধান দিয়ে থাকবে।

লেখক পরিচিতি

Responses