বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ

মোঃমনিরুজ্জামানঃ

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকের কথা বলা আছে সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২২ অনুচ্ছেদে।এখানে বলা আছে রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথক রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।অর্থাৎ এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির একটি।সংবিধানে এই পৃথকের কথা থাকলেও বাস্তবিকভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয় ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে। আজ বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার দিন। ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৭ থেকে ১লা সেপ্টেম্বর ২০২০ কেটে গেছে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার ১৩ বছর।

মাজদার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বিচার বিভাগীয় অফিসার ১৯৯৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ২৪২৪ /৯৫ দায়ের করেছিলেন নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার জন্য।এই বিষয়ে ১৯৯৬ সালের ১৩ ই জুন থেকে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ।

দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্ট বিভাগ ১৯৯৭ সালের ৭ মে রায় দেন । এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপীল করে এবং আপীল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত রায়ের পক্ষে ২ ডিসেম্বর ,১৯৯৯ সালে রায় প্রদান করে।রায়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক সহ সরকারকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়ঃ-

১/ সরকার অবিলম্বে সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিধিমালা প্রনয়নের জন্য ব্যাবস্থা গ্রহন করে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্য হিসাবে পরিচিত এবং সুপ্রিমকোর্ট এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের সমন্বয়ে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।

২/ সংবিধানের ১৩৩ নং অনুচ্ছেদ সারে জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের পদোন্নতি, ছুটি ,শৃঙ্খলা ,ছুটি ভাতা এবং সার্ভিসের অন্যান্য যেসব শর্ত থাকে সে সংক্রান্তে আইন বা বিধিমালা সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ প্রণয়ন করতে হবে ।

৩/ সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে জুডিসিয়াল পে কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৪/১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতার শর্তাবলী যেমন ,চাকুরীর মেয়াদের নিরাপত্তা ,বেতন,রবং অন্যান্য সুবিধাদি এবং পেনশনের নিরাপত্তা পার্লামেন্ট ও নির্বাহী বিভাগ হতে সাংবিধানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন বা বিধিমালা প্রনয়ন করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে ।

৫/ সুপ্রিমকোর্টের ফান্ডে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা থেকে খরচ করতে হলে সুপ্রিমকোর্টকে নির্বাহী সরকার হতে সে বিষয়ে কোন অনুমোদন নেয়ার আবশ্যক নেই ।

এই রায় বাস্তবায়ন হয় ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে আর এর মাধ্যমেই নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়।বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়।

 

লেখকঃ
মোঃ মনিরুজ্জামান
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

Responses

লেখক পরিচিতি