রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়ার প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা পরিস্থিতির মাঝে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত আদালত খুলে দিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছে একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আজ বুধবার (০৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতিকে সমিতির নেতারা প্রস্তাবনা সংবলিত চিঠি পাঠিয়েছেন। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সকলকে অবহিত করা হয়।

সমিতির চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সব আদালতের বিচার কার্যক্রম একদম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে দেশব্যাপী দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে কিছুটা হলেও চলছে। তবে আমাদের তথ্যানুযায়ী, বেশিরভাগ আইনজীবী নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ভার্চুয়াল আদালতে মামলা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এছাড়া ভার্চুয়াল আদালতে আগাম জামিনের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যবস্থাপনা না থাকায় বিচারপ্রার্থী জনগণ ব্যাপক পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তাই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নিয়মিত আদালত চালুর ব্যাপারে কিছু করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এগুলো হলো—

১. ভার্চুয়াল আদালত নিয়মিত আদালতের বিকল্প হতে পারে না। সুতরাং, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে অনতিবিলম্বে নিয়মিত আদালত চালুর পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটি অভিমত প্রকাশ করে।

২. যেহেতু করোনার ভয়াবহতার কারণে ইতোমধ্যে আদালতের মূল্যবান সময় অপ্রত্যাশিতভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং, এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ২০২০ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বছরের ছুটি এবং সব আদালতের ডিসেম্বরের ছুটি বাতিল করতে হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আদালতের ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে আনতে হবে।

৩. নিয়মিত আদালত চালুর পূর্বে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বেশকিছু পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এজন্য অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণপূর্বক বার ও বেঞ্চের সদস্যদের সমন্বয়ে সুপ্রিম কোর্টসহ সারাদেশের সব আদালত প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় ঠিক করতে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা করা যেতে পারে।

৪. করোনাকালে আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সব পক্ষকে সুরক্ষা নীতিমালা করে তা মেনে চলতে হবে।

৫. সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যরা নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন। সমিতি ভবনে টয়লেট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে করোনা বিষয়ক সচেনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সমিতির পক্ষ থেকে সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনা চিকিৎসার জন্য হলি ফেমিলি হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা সুবিধাসহ আরও দুটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির একান্ত আগ্রহে সমিতির সদস্যরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ফ্রি করোনা টেস্টের সুবিধা পাচ্ছেন। সমিতি ভবনের প্রবেশপথে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সমিতি ভবনে অহেতুক মানুষের উপস্থিতি সীমিত করা হবে।

৬. যতদিন পর্যন্ত নিয়মিত আদালত চালু করা সম্ভব হচ্ছে না, ততদিন পর্যন্ত সব আইনজীবী যেন পেশা পরিচালনার সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে বিদ্যমান ভার্চুয়াল কোর্টের সংখ্যা, পরিধি এবং বিচারিক সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে।

৭. বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য ভার্চুয়াল আদালতেও আগাম জামিন চালু করতে হবে।

উপরিউক্ত বিষয়াবলী সুবিবেচনায় নিয়ে অনতিবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টসহ সারাদেশের আদালত নিয়মিতভাবে চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

লেখক পরিচিতি

Responses