বুধবার, ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ২০শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

বাংলাদেশের আইনে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিবাহ বৈধ নাকি অবৈধ?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
পিবিআইকে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে নাসির-তামিমার মামলা তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ

বাংলাদেশের আইনে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিবাহ বৈধ নাকি অবৈধ?

চলতি মাসের গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বসন্ত আর ভালোবাসার দিনে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে স্বল্প পরিসরে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের একসময়কার নিয়মিত মুখ ‘ব্যাডবয়’ খ্যাত তারকা অলরাউন্ডার নাসির হোসেন।

এরইমধ্যে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ পেল, যা শুনে হতভম্ব নাসিরের ভক্তসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গন।জানা গেছে, নাসিরের সহধর্মিণী তামিমা হোসেন তাম্মির এটাই প্রথম বিয়ে নয়। তার আরও এক স্বামী রয়েছে এবং সেই সংসারে ৮ বছরের একটি কন্যাসন্তান আছে। আর সেই স্বামী-সন্তানকে ফেলে এসে নাসিরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন তামিমা।

তামিমার সেই স্বামীর নাম রাকিব হাসান। তার দাবি, তামিমার সঙ্গে ১১ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাদের ঘরে ৮ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। তামিমা তাকে তালাক না দিয়েই ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

বাংলাদেশের আইনে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিবাহ বৈধ নাকি অবৈধ
বাংলাদেশের আইনে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিবাহ বৈধ নাকি অবৈধ

 

এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন রাকিব হাসান। ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেছেন রাকিব। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি শাহ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সেই জিডির কপিতে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। জিডিতে লেখা অনুযায়ী, রাকিব-নাসির ছাড়াও তামিমার ছিল আরেক সংসার। যেখানে তামিমা সংসার করেছেন মাত্র ৬ মাস। আর এটি হয়েছে রাকিবের সাথে সংসার চলাকালীন সময়েই।

ছয়মাস সংসার করার পর রাকিবের কাছে ফিরে এসে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তামিমা। তামিমা বলেছিলেন, কখনো এমন হবেনা। এরপর মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে তাকে ক্ষমা করে দেয় রাকিব হাসান। কিন্তু এর কয়দিন পর নাসিরের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

রাকিব হাসান বলেন, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তামিমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর অনেক বছর তামিমার পক্ষের কোনো আত্মীয়স্বজনের দেখা পাইনি।

বছরচারেক আগে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তামিমাকে সৌদি এয়ারলাইন্সে চাকরি পাইয়ে দিই। এই চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সে (তামিমা) বদলে যেতে থাকে।

যদি পূর্বের স্বামী রাকিব তামিমা ও নাসিসের নামে মামলা দায়ের করেন তাহলে আইনে নাসির ও তামিমার কী হতে পারে চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ-

 

বাংলাদেশের আইনে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিবাহ বৈধ নাকি অবৈধ
বাংলাদেশের আইনে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিবাহ বৈধ নাকি অবৈধ

 

মুসলিম আইন অনুযায়ী, এ রকম বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হবে না। এই বিয়ে বাতিল বা অবৈধ বিবাহ বলে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, অন্য কারো সঙ্গে বিয়ে করতে চাইলে প্রথমে তাকে ডিভোর্স নিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় অতিক্রমের পর সেই নারী বিয়ে করতে পারবে। চাইলেই ডিভোর্সের পরদিনই বিয়ে করতে পারবে না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিধান অনুযায়ী, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় বলা আছে, পূর্বের বিয়ে থাকা অবস্থায় কোনো স্ত্রী একাধিক বিয়েতে আবদ্ধ হলে ৭ (সাত) বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে, আর ৪৯৫ ধারায় বলা আছে যদি পূর্বের বিয়ে গোপন করে তাহলে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

তবে ৪৯৪ ধারার একটা ব্যতিক্রম ছিল, যদি সাত বছর ধরে স্বামী নিরুদ্দেশ থাকে এবং জীবিত আছে এ রকম কোনো সন্ধান না পাওয়া যায় তাহলে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে। শর্ত হলো, নতুন বিয়েতে পূর্বের বিয়ের সকল ঘটনা সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছেঃ-
“কোন লোক যদি, অপর কোন নারীর স্বামীর বিনা সম্মতিতে বা যৌণকামনার উপস্থিতি ছাড়া যৌণসঙ্গম করে, যে নারী অপর কোন পুরুষের এরূপ যৌণসঙ্গম ধর্ষণের অপরাধ না হলে, সে লোক ব্যভিচার করেছে বলে পরিগণিত হবে ও তাকে যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানা দণ্ডে বা উভয় দণ্ডে শাস্তিযোগ্য হবে। এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারিণী হিসেবে শাস্তিযোগ্য হবে না”।

এ থেকে পেলাম, ধর্ষণ ছাড়া কোন বিবাহিত স্ত্রী লোকের সাথে তার স্বামীর সম্মতি ছাড়া যৌণ সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ব্যভিচার এবং শাস্তি সর্বোচ্চ সাত বছর বা জরিমানা বা উভয় কিন্তু তা শুধুমাত্র পুরুষের জন্য, নারীর জন্য নয়। এই ধারা অনুযায়ী যদি ক্রিকেটার নাসির হোসেন অপরাধী হয় তাহলে তার যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড হতে পারে যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানা দণ্ডে বা উভয় দণ্ডে শাস্তিযোগ্য হবে।

যেহেতু জানা গেছে নাসির হোসেনের স্ত্রী পূর্বেই অন্যের বউ এখনো তিনি তাকে ডিভোর্স না দিয়েই নাসির হোসেন কে বিয়ে করেছে সে অনুযায়ী  তামিমা নাসিরের বউ  হতে হলে বা নাসিরকে বিয়ে করতে হলে তামিমার কি পদক্ষেপ নিতে হতো চলুন আ্ইনের আলোকে দেখে নেওয়া যাকঃ-

আইনুযায়ী তামিমা যদি ক্রিকেটার নাসিরের সাথে বিবাহ করতে চাই তাইলে তামিমাকে তার পূর্বের স্বামীকে আগে তালাক প্রদান করতে হবে । সে অনুযায়ী চলুন দেখে নেওয়া যাক স্ত্রী কর্তৃক তালাক দেওয়ার নিয়মকানুন গুলো কেমন এবং কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

স্ত্রী কর্তৃক তালাক দেওয়ার নিয়মকানুন জানতে এখানে ক্লিক করুন

 

Responses

লেখক পরিচিতি