রবিবার, ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ৫ই শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

বাড়ি ভাড়া আইন কি? বাড়ি ভাড়া নেবার আগে করণীয়

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
বাড়ি ভাড়া

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রন আইন, ১৯৯১

১৯৯১ সনের ৩ নং আইন [২৯ শে এপ্রিল, ১৯৯১]

বাড়ি ভাড়া

আমাদের বাড়ী ভাড়া নেবার আগে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় কাজ রয়েছে । কারণ বাড়ী ভাড়ার নিয়ম সম্পর্কে যদি বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়া কোন কিছু না জেনে বাড়ী ভাড়া নেই ও দেয় সেই ক্ষেত্রে বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়পক্ষ বিপদের সম্মুক্ষিণ হতে পারেন। সে জন্য বাড়ীর মালিক এবং ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই বাড়ীভাড়া নিয়ন্ত্রন আইন, ১৯৯১ সম্পর্কে জানা উচিৎ।

বাড়ি ভাড়া আইন কী?

বাড়ী ভাড়া আইন বলতে বুঝায় যখন কোন ব্যক্তি যিনি নিজের বা অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষে বা অন্য কোন ব্যক্তির উপকারার্থে বা কোন ব্যক্তির টাষ্ট্রি, বা রিসিভার হিসাবে কোন বাড়ীর ভাড়া পান বা পাইবার অধিকারী হন, বা যিনি বাড়ীটি ভাড়া দেওয়া হইলে উক্তরূপ ভাড়া পাইতেন বা ভাড়া পাইবার অধিকারী হইতেন এবং Code of Civil Procedure, 1908( V of 1908) এ সংজ্ঞায়িত কোন আইনগত প্রতিনিধি (Legal representative) উপ-ভাড়া প্রদানকারী কোন ভাড়াটিয়া এবং বাড়ী-মালিক হইতে স্বত্ব প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি যদি বাড়ীটি অপর কোন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়ীর দখল হস্তান্তর করেন তাহাকে মূলত বাড়ী ভাড়া বলা হয়।

বাড়ি ভাড়া ঢাকা

রাজধানীর ঢাকা শহর সহ বেশিরভাগ জেলা শহর গুলোতে মানুষ বাসা ভাড়া করে থাকেন। তার পরেও ভাড়াটিয়াদের নানাবিধ ঝাঁমেলা পোহাতে হচ্ছে।
যেমন:- বাসাটি কেমন হবে, পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চলাফেরা করতে পারবে কি না , পরিবারের লোকজনদের নিরাপত্তা কেমন হবে? বাসার মালিকের আচরণ কেমন হবে, বাসায় চলাফেরার ক্ষেত্রে বাসায় প্রবেশের সময় সূচির নিয়ম কানুন কেমন হবে ইত্যাদি।

house for rent
বাড়ি ভাড়া আইন কানুন।

বাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে আপনার করণীয় কী?

১. বাড়ী ভাড়ার চুক্তিপত্র উভয়পক্ষ অবশ্যই ৩০০ টাকার ষ্টাম্পে সম্পুর্ণ করবেন।
২. চুক্তি করার সময় বাড়ী ভাড়ার শর্তসমূহ ভালোভাবে দেখে নিবেন ।
৩. বাড়ীতে প্রবেশ ও পরিদর্শনের ক্ষমতার সময় সম্পর্কে জেনে নিবেন।
৪. বাড়ী ভাড়া বৃদ্ধির উপর বাধা নিষেধের সময়সীমা সম্পর্কে জেনে নিবেন।
৫. বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়ার নাম এবং ঠিকানা সঠিকভাবে যাচাই করে নিবেন।

বাসা ভাড়া নেয়ার আগে অবশ্যই আপনি যে বাসাবাড়ি বা অ্যাপার্ন্টমেন্ট ভাড়া নিতে চাচ্ছেন তা অবশ্যই দেখে নিবেন। বাসা বাড়ীর দেয়াল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কাজেই বাসাবাড়ীর দেয়াল ঠিক আছে কিনা দেখে নিতে হবে। ভালো করে লক্ষ্য করবেন দেয়ালে কোন ছোপ ছোপ ভেজা দাগ রয়েছে কিনা। কারণ এটা শুধু বাসাবাড়ির সোন্দর্য নষ্টের ব্যাপার নয়, এতে স্বাস্থ্যগত অনেক ঝুঁকিরও ব্যাপার রয়েছে। এমনকি এমন ভেজা চার দেয়ালের মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাসে অনেক সমস্যা হয়। আমাদের আধুনিক জীবন ব্যবস্থার প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত পন্যের ব্যবহার বেড়েছে। টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, রেফ্রিজারেটর, ওভেন, কম্পিউটারসহ অন্যান্য কাজে বাসাবাড়ীতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দরকার।

তাই বাসা ভাড়া নেয়ার আগে দেখে নিন বাসাটিতে মোট কতটি বৈদ্যুতিক সকেট বসানো রয়েছে। যদি লক্ষ করেন লম্বা তার টেনে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়া থাকে তাহলে বিপদ কারণ দুর্ঘটনা এড়ানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এইবার দেখেনিন গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গার আকার কেমন। দেখেনিন যথেষ্ট পরিমান জায়গা রয়েছে কিনা। যদি আপনার গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকে তাহলে সেই বাড়ীতে পার্কিং করা যাবে কিনা , তার নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত পরিমান জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে কিনা আগে দেখে নিন। বাসার সিকুরিটির ক্ষেত্রে প্রহরি ও সিসি ক্যামেরার দিকে নজর দিয়ে নিশ্চিত হন।

"<yoastmark

ঘরের ভেতর আলো বাতাস আসার জন্য জানালা আছে কিনা দেখে নিন। বাসাটির জানালা দিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখেনিন কী কী রয়েছে? যদি দেখেন জানালার পাশের ভবনে রেষ্টুরেন্ট বা আবর্জনার স্তুপ রয়েছে তাহলে বাসাটি না নেওয়ায় ভালো। বাসাবাড়ী ভাড়া নেবার সময় অবশ্যই মালিক পক্ষের সাথে সরাসরি কথা বলে নেবেন। যদি বাসাবাড়ী ভাড়া নেবার পূর্বে বাসার মালিকের সাথে সরাসরি কথা বলেন তাহলে তার সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিস্কার হয়ে যাবে।

এমনও হতে পারে অনেক বাড়ীর মালিক অন্য কোথাও থাকেন। যদি বাসার মালিক ওই বাড়ীতেই থাকেন তাহলে অনেক সুবিধা আর না থাকলে জানতে হবে বাসার মালিক কতদিন পরপর ভাড়াটিয়াদের অবস্থা দেখতে আসেন। কারণ ভাড়াটিয়ার সমস্যা দেখভাল করা মালিকের অন্যতম দায়িত্ত্বের মধ্যে পরে।

প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্কের মাধ্যমে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করা যায়। সুতরাং বাসা ভাড়া নেওয়ার পূর্বে দেখে নিন আপনার বাসার চারপাশে যে সকল লোকজন বসবাস করেন তাঁরা কে, তারা কেমন ও কি করে। এসকল বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো। এতেকরে যে কোনো সময় কাজে লাগতে পারে। ঝাঁমেলা এড়ানোর জন্য বাসাবাড়ী ভাড়া নেবার পূর্বে জেনে নিন আপনি যে বাসা বা অ্যাপার্টমেন্টটিতে উঠছেন সেই বাসাটি বিক্রির চেষ্টা চলছে কি না। যদি দেখেন বাসাাটি বিক্রির চেষ্টা চলছে তাহলে মনে রাখবেন বাসাটি বিক্রি হওয়া মাত্রই আপনাকে খুব তাড়াতাড়ি বাসাটি ছেড়ে দেবার তাগাদা দেবেন মালিক।

আমাদের জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদার মধ্যে রয়েছে পানি ও গ্যাস দেখতে হবে বাসাটিতে সব সময় পানি থাকে কিনা দেখে নিন। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে থাকলে জেনে নিন ওই বাড়ীর পানির মূল উৎস কী, গ্যাসের কি অবস্থা জেনে নিন।

এ সম্পর্কিত আরেকটি লেখাঃ বাড়ি ভাড়া আইন ও মালিক-ভাড়াটিয়ার প্রয়োজনীয় সচেতনতা।

মনে রাখবেন অনেক সময় বাসার মালিক যখন তখন কিছু না বলে বাড়ীর ভাড়া বাড়িয়ে দেবার কথা বলেন। কয়েক মাস না যেতেই বাসা ভাড়াই যোগ হয় বাড়তি টাকা। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি থাকতে বাসা ভাড়ার চুক্তিতে বাসা ভাড়ার পরিমান, অন্যান্য সুযোগ সুবিধার বিবরণসহ যাবতীয় বিষয় লিপিবদ্ধ আছে কিনা ভালো করে দেখে নিন।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্তমান প্রতিটি বাসার মালিক তার নিজের ও ভাড়াটিয়ার তথ্য নির্ধারিত ফরমে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বাধ্য। সুতরাং বাসা ভাড়া নেবার পর সময় নষ্ট না করে বাসার মালিকের সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে আন্তরিক হয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে আপনার তথ্য ফরম পূরণ করবেন।

rent law
rent law in Bangladesh

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রন আইন ,১৯৯১

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিকতর সুষ্ঠ আইনের বিধান প্রনয়ণের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।

যেহেতু বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষ্ঠ একটি বিধান প্রণয়ন করা দরকার এবং প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরুপ আইন প্রণয়ন করা হইল:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নামে অভিহিত হয়।
(২) ধারা ২৩,২৪,২৫,২৬,এবং ২৭ দু’ জানিয়ারী,১৯৯১ ইং তারিখে আইনটি কার্যকর হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে এবং অবশিষ্ট ধারাগুলি যে সকল এলাকায় Premises Rent Control Ordinance, 1986(XXII of 1986) ২৬ শে মার্চ, ১৯৮৯ ইং তারিখে বলবৎ ছিল সে সকল এলাকায় ২৭ শে মার্চ,১৯৮৯ ইং তারিখে বলবৎ হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে য়ে, সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা অন্যকোন এলাকায় এই আইন বা উহার কোন অংশ বিশেষ প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত তারিখ হইতে বলবৎ করার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইন বা উহার কোন অংশ বিশেষ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত তারিখ হইতে কোন এলাকায় প্রযোজ্য হইবে না বলিয়াও নির্দেশ দিতে পারিবে।

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রন আইন , বাড়ী ভাড়া সংক্রান্ত আইন , বাড়ী ভাড়া আইন বাংলাদেশ:-

আমরা অনেকে গুগলে বাড়ী ভাড়া আইন সম্পর্কে জানতে সার্চ ইঞ্জনিে গিয়ে নিম্নোক্ত কী ওয়াড দিয়ে সার্চ দিয়ে থাকি কিন্তু মূলত বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রন আইন, বাড়ী ভাড়া সংক্রান্ত আইন, বাড়ী ভাড়া আইন বাংলাদেশ এই সকল বিষয় গুলো বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রন আইন,১৯৯১ এর অন্তরভূক্ত।

বাড়ি ভাড়া আইন ,২০২০

আমরা অনেকে গুগোলে বাড়ী ভাড়া আইন সম্পর্কে জানতে সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে বাড়ী ভাড়া আইন, ২০২০ লিখে সার্চ দিয়ে থাকি কিন্তু বাড়ী ভাড়া আইন ,২০২০ নামে বাংলাদেশে কোন বাড়ী ভাড়া আইন নেই । বর্তমান পর্যন্ত যে আইন এখনও বিদ্যমান রয়েছে সেটি হচ্ছে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রন আইন,১৯৯১।

পরিশেষে যে বিষয় গুলো একজন ভাড়াটিয়া এবং বাড়ির মালিকের না জানলেই নয় সে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো তুলে ধরা হলো:-

(১) বাড়ীতে প্রবেশ ও পরিদর্শনের ক্ষমতা
(২) বাড়ী ভাড়া বৃদ্ধির উপর বাধা নিষেধ
(৩) প্রিমিয়াম ইত্যাদির দাবী নিষিদ্ধ
(৪) ভাড়া আদায়ের রশিদ প্রদান
(৫) অনাদায়যোগ্য ভাড়া ইত্যাদি ফেরৎ
(৬) নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(৭) মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং উহার মেয়াদ
(৮) অনুমোদনযোগ্য ভাড়া প্রদান করা হইলে সাধারণতঃ উচ্ছেদের আদেশ দেওয়া হইবে না
(৯) মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার দন্ড
(১০) বাড়ী-মালিকের ভুল নাম বা ঠিকানা দেওয়ার দন্ড
(১১) বাড়ী দখল বুঝাইয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার ব্যর্থতায় দন্ড
(১২) রসিদ প্রদানে ব্যর্থতায় দন্ড
(১৩) বাড়ী-মালিকের বিনা অনুমতিতে বাড়ীতে বিদ্যুতসরবরাহ পাওয়ার অধিকারী
(১৪) সুখাধিকার ইত্যাদিতে বাধা প্রদান করলে দন্ড
(১৫) লক্ষ্য রাখবেন বাসার মালিক চুক্তিপত্রে কোন রকম বে-আইনী কোন শর্ত জুড়ে দিচ্ছে কি না।
(১৬) চুক্তিপত্রে কখনো না দেখে এবং না পড়ে স্বাক্ষর করবেন না।
(১৭) লক্ষ্য রাখবেন চুক্তিপত্রে যে সকল স্বাক্ষীগণ স্বাক্ষর করবেন তারা যেন উভয় পক্ষের পরিচিত হয়।
(১৮) চুক্তি সম্পন্ন হলে চুক্তিপত্রের একটি ফটোকপি অবশ্যই বাসার মালিক নিজের কাছে রাখবেন।
(১৯) চুক্তি করার পূর্বে চুক্তিপত্রে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা উল্লেখ করে নিবেন । এতে করে উভয় পক্ষ্ সুবিধা ভোগ করবেন।
(২০) বাসা ভাড়া নেবার সময় যদি বাসার মালিক অগ্রীম কোন ভাড়া নিতে চায় তাহলে বাসার মালিক কত মাসের অগ্রীম ভাড়া নিতে চায় ও ভাড়াটিয়া কত মাসের অগ্রীম ভাড়া দিতে চাচ্ছে এবং উক্ত অগ্রীম ভাড়া গ্রহনকারী ভাড়াটিয়াকে পূনরায় কত দিনের মধ্যে বা নিদিষ্ট কোন সময়ে অগ্রীম গ্রহনকৃত টাকাটি ভাড়াটিয়াকে ফেরত প্রদান করবেন সেটি চুক্তিপত্রে উল্লেখ করে নিবেন। ধন্যবাদ।

এ সম্পর্কিত আরেকটি লেখাঃ হুট করে কি বাড়িভাড়া বাড়ানো যায়?

লেখকঃ ল ফর ন্যাশনস, ইমেইলঃ lawfornations.abm@gmail.com,

Responses

লেখক পরিচিতি