রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক গুলো বিস্তারিত

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক গুলো বিস্তারিত জানার আগে জেনে নিব ব্যবসা কাকে বলে ও ব্যবসা কত প্রকার।অর্থশাস্ত্রের পরিভাষায় ব্যাবসায় এক ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড।জীবিকা নির্বাহ  মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে কোনাে ব্যবসায় করার  অধিকার সকলের রয়েছে।

ব্যবসা কাকে বলে?

পণ্য দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদন, পণ্য দ্রব্য ও সেবাকর্ম বিনিময়ের সহায়ক কাজের সমষ্টিকে ব্যবসায় বলে।

ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি?

আধুনিক ব্যবসাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথাঃ
(১)শিল্প (Industry)
(২)বাণিজ্য (Commerce)
(৩)প্রত্যক্ষ সেবা (Direct Services)

"ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক

বাণিজ্য (Commerce):

ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবা সামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে ৷
বাণিজ্য দুই ধরনের। যথা:
(১)অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য
(২)আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য

অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য:

যখন একই দেশের দুটি অঞ্চলের মধ্যে পণ্যের বিনিময় হয়,তখন তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য যখন দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে পণ্যের বিনিময় হয়, তখন তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে।

প্রত্যক্ষ সেবা (Direct Services):

অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়ােজিত ডাক্তার , উকিল , প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীরা বিভিন্ন রকম সেবাকর্ম অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন । এ সকল সেবাকর্ম প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত । যেমন: ডাক্তারি ক্লিনিক , আইন চেম্বার , প্রকৌশলী ফার্ম, অডিট ফার্ম ইত্যাদি ।
প্রত্যক্ষ সেবা আধুনিক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ।

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক গুলো বিস্তারিত

মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায় সংগঠনগুলােকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায় :

(১ ) একমালিকানা ব্যবসা
(২ ) অংশীদারি ব্যবসা
(৩) যৌথ মূলধনী ব্যবসা বা কোম্পানি সংগঠন
(৪) সমবায় সমিতি
৫ . রাষ্ট্রীয় ব্যবসা

যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বা কোম্পানি সংগঠন :-

যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের ধারণা ( Concept of Joint Stock Companies ):

একমালিকানা ব্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে ব্যবসায়ের যে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল তা আর একমালিকানা ব্যাবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি । একমালিকানা ব্যবসার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বিশেষ করে মূলধনের স্বল্পতা ও একক পরিচালনা ও ক্ষুদ্র আয়তনের জন্য অংশীদারি ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয় । কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়ও মূলধনের সীমাবদ্ধতা , আইনগত সীমাবন্ধতা , স্থায়িত্বহীনতা ও অসীম দায়ের ভার থেকে মুক্ত নয় । এক সময় মানুষের চাহিদা , প্রয়ােজনীয়তা ও ব্যবসায়ের আওতা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে । তাই আইনের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় অধিক মূলধন ও বৃহদায়তনের যৌথ মূলধনী ব্যবসায় যা কোম্পানি সংগঠন নামেও পরিচিত । মূলত শিল্প বিপ্লবের কারণে উৎপাদন ব্যবস্থা যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় তার সাথে সাথে ব্যবসায় সংগঠনের প্রকৃতি ও আওতায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে । উৎপাদন , বণ্টন ব্যবস্থা পারিবারিক গন্ডি থেকে বেরিয়ে এসে কারখানাতে স্থান নেয় । ফলে জন্ম হয় অধিক মূলধন , সীমিত দায় , যৌথ ব্যবস্থাপনা এবং আইনগত সত্তা ও পৃথক অস্তিত্ব বিশিষ্ট যৌথ মূলধনী ব্যবসায় সংগঠন ।

যৌথ মূলধনী ব্যবসায় আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট ও পরিচালিত হয় । সর্বপ্রথম কোম্পানি আইন পাস হয় ব্রিটেনে ১৮৪৪ সালে যা The Joint stock Company Act 1844 ‘ নামে পরিচিত ছিল । ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কোম্পানি আইন পাস হয় ১৮৫০ সালে । ১৯১৩ সালে ভারতীয় কোম্পানি আইন আবার নতুন করে পাস হয় । স্বাধীন বাংলাদেশেও অনেক বছর যাবত ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইন চালু ছিল । কোম্পানি আইনের ব্যাপক সংস্কার করে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে নতুন কোম্পানি আইন প্রবর্তন করা হয় । বর্তমানে বাংলাদেশের সকল কোম্পানি ব্যবসায় ১৯৯৪ সালের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে ।

১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে কোম্পানি বলতে ‘ অত্র আইনের অধীনে গঠিত ও নিবন্ধিত কোনাে কোম্পানি অথবা বিদ্যমান কোনাে কোম্পানিকে বুঝায় ‘।

যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য (Features of Joint Stock Company):

বর্তমানের বৃহদায়তন ব্যবসায় জগতে এ জাতীয় ব্যবসায়ের গুরুত্ব অধিক । এ জাতীয় ব্যবসায়ের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা তাকে অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠন থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে ।

(১) যৌথ মূলধনী কোম্পানি একটি আইনসৃষ্ট ব্যবসায় সংগঠন । দেশের প্রচলিত কোম্পানি আইনের আওতায় এ ব্যবসায় গঠিত হয় । আইনের অধীনে হয় বলে এর গঠন বেশ জটিল ও আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ । আইন অনুযায়ী এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত । প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৭ জন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যা শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ ।
(২)কোম্পানি ব্যবসায় একটি স্বেচ্ছামূলক প্রতিষ্ঠান । কোম্পানি ব্যবসায় করতে আগ্রহী কিছু সংখ্যক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সংঘবদ্ধ হয়ে কোম্পানি গঠন করে । তবে সদস্যদের কেউ ইচ্ছা করলে শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে সহজেই ব্যবসায় থেকে বিদায় নিতে পারে । আবার কেউ ইচ্ছা করলে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে এর সদস্য পদ লাভ করতে পারে ।
(৩) আইনের দ্বারা সৃষ্ট বলে এ ব্যবসায়টি কৃত্রিম ব্যক্তি সত্তার অধিকারী । কৃত্রিম ব্যক্তি সত্তা বলতে বােঝায় , ব্যক্তি না হয়েও ব্যক্তির ন্যায় আইনগত মর্যাদা ও অধিকার অর্জন করা যায় । কোম্পানি যে কোনাে স্বাধীন ব্যক্তির মতাে নিজ নামে অন্যের সাথে চুক্তি ও লেনদেন করতে পারে এবং প্রয়ােজনে মামলাও করতে পারে ।আবার অন্য কোনাে পক্ষও কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে ।
(৪) কোম্পানি ব্যবসায় যেহেতু আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট তাই এর বিলুপ্তি ঘটাতে চাইলে তা করতে হবে আইনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে সে চিরন্তন অস্তিত্বের মর্যাদা লাভ করে । কোনাে শেয়ার হােল্ডারের মৃত্যু , দেউলিয়াত্ব বা শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে কোম্পানির বিলােপ সাধন হয় না ।
(৫) কৃত্রিম ব্যক্তি হওয়ার কারণে কোম্পানিকে একটি সিল ব্যবহার করতে হয় । কোম্পানির সকল কাজে ও কাগজপত্রে এ সিলের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
(৬)আইনগতভাবেই কোম্পানির মূলধনকে কতকগুলো সমান ক্ষুদ্র এককে ভাগ করা হয় । এরূপ প্রত্যেকটি একককে একটি করে শেয়ার বলে । শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করে । এজন্য এগুলােকে শেয়ার মূলধন বলে । ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনাে ব্যক্তি এবং যে কোনাে প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনে এর সদস্যপদ লাভ করতে পারে । সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এবং শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করার সুযােগ থাকার কারণে কোম্পানি ব্যবসায়ে অধিক মূলধন পায়।
(৭) কোম্পানি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোম্পানির মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা । একমালিকানা বা অংশীদারি ব্যবসায়ের মতাে মালিকগণ সরাসরি ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করে না । ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকে বেতনভুক্ত অন্য একটি পক্ষের উপর । পরিচালক বা মালিকগণ নীতি নির্ধারণ কাজে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
(৮) কোম্পানি ব্যবসায়ের সদস্যগণের দায় সীমিত । একমালিকানা বা অংশীদারি ব্যবসায়ের মতাে অসীম নয় । সদস্যগণের দায় সাধারণত শেয়ার মূল্য ও প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমাবদ্ধ । শেয়ার মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ বলতে বােঝায় একজন শেয়ার মালিক যে মূল্যমানের শেয়ার কেনে তিনি শুধু সে পরিমাণ অর্থের জন্য দায়ী । অর্থাৎ যদি কোনাে শেয়ার মালিক কোনাে কোম্পানির ১০০ টাকা মূল্যের ১০০ শেয়ার ক্রয় করেন তাহলে তার দায় শুধু ১০ , ০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে । অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমাবদ্ধ কোম্পানিতে একজন শেয়ারমালিক যে পরিমাণ শেয়ার ক্রয়ের জন্য প্রতিশ্রুতি দেন সে পরিমাণ অর্থের দায়বদ্ধ থাকবেন ।
(৯) কোম্পানি ব্যবসায়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা গণতান্ত্রিক রীতি – নীতি ও মূল্যবােধ অনুসরণ করা হয় । শেয়ারমালিকগণ প্রত্যক্ষভাবে ভােট দিয়ে পরিচালনা পরিষদ নিয়ােগ করেন পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবসা পরিচালিত হয় ।

Industry
Industry

যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বা কোম্পানি সংগঠনের প্রকারভেদ (Classification of Join Stock Company):

বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থায় আর্থ – সামাজিক দিকের বহুবিধ পরিবর্তন ও উন্নয়নের ছোঁয়া ব্যবসাকে স্পর্শ করে । যার কারণে একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে ব্যবসা হিসেবে যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয় । যৌথ মালিকানাধীন যত রকমের ব্যবসা সংগঠন আছে তার মধ্যে কোম্পানি সংগঠন সবচেয়ে বেশি পরিচিত ।

বাংলাদেশের কোম্পানি সংগঠনগুলােকে প্রধানত দু ‘ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

(১) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি;
(২) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি

(১) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company):

যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযােগ্য নয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে ।
বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে বলা হয়েছে , প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে এমন কোম্পানিকে বােঝায় যার সদস্য সংখ্যা ৫০ জনে সীমাবদ্ধ , সদস্যদের শেয়ার হস্তান্তর অধিকার সীমিত এবং শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের জন্য জনগণের নিকট আমন্ত্রণ জানানাে নিষিদ্ধ ’ অর্থাৎ কোম্পানির সদস্যগণ শুধু নিজেরাই শেয়ার ক্রয় করতে পারেন । সদস্য সংখ্যা ও মূলধনের পরিমাণ সীমিত হওয়ার কারণে এ জাতীয় কোম্পানির আয়তন তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র হয়ে থাকে । আইন অনুযায়ী এ কোম্পানির পরিচালকের সংখ্যা ন্যূনতম ২ হতে হবে । বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

(২) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (Public Limited Company):

যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন ও সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কোম্পানির স্বারকলিপিতে উল্লিখিত শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের নিকট বিক্রি করা যায় এবং শেয়ার হস্তান্তরযােগ্য তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে । পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি প্রয়ােজনে স্বারকলিপিতে সংশােধনী এনে শেয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে । আইন অনুযায়ী এ কোম্পানির নুন্যতম ৩ জন পরিচালক থাকতে হবে ।

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক

যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের গুরুত্ব (Importance of Joint Stock Company):

বর্তমান ব্যবসায় জগতে একমালিকানা ব্যবসায়ের মতাে যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ব্যবসাও দেশে বিদেশে খুব জনপ্রিয় । তাছাড়া বৃহদায়তনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিপুল সখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টির জন্য কোম্পানি সংগঠন সবচেয়ে বেশি উপযােগী । কর্মসংস্থানের সাথে সাথে শুধু বেকারত্বই দূর হয় না , জীবনযাত্রার মানও উন্নতি হয় এবং মাথাপিছু আয় বাড়ে । আবার একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ে ঝুঁকি এবং দায় অসীম হওয়ার কারণে বড় আকারের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়ােগ সম্ভব হয় না যা সম্ভব হয় কোম্পানি সংগঠনের মাধ্যমে । তাছাড়া উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে কোম্পানি সংগঠনই বেশি উপযুক্ত । কারণ এ ধরনের ব্যবসায় সংগঠন ও শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য যে বিশাল পরিমাণ মূলধন ও অর্থের প্রয়ােজন হয় তা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলাে জনগণের নিকট থেকে সংগ্রহ করতে পারে ।ফলে দেশের শিল্প উন্নয়ন বিকাশ বৃদ্ধি পায় । কোম্পানি সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবসায়ের প্রসার বৃদ্ধি পায় ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয় । বর্তমানে বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানি বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যবসায় পরিচালনা করে । আমাদের দেশে ইউনিলিভার, একেক্স ইত্যাদি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে । এভাবে এক দেশের কোম্পানি অন্য দেশে শাখা খুলে কাজ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে । বাংলাদেশে বিগত দুই দশক যাবত অনেকগুলাে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেগুলাে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবদান ব্যপক ভুমিকা পালন করছে।

ব্যবসা

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক গুলো সাথে জানতে হবে কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া।

একটি কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া (Process of Formation of a Company):

বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুসারে কতকগুলাে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোম্পানি গঠন করতে হয় ।
একটি কোম্পানি গঠন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধারাবাহিক পর্যায়ে সম্পন্ন হয় । যথো-
(১) উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়
(২) দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়
(৩) নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায
(৪) কার্যারম্ভ পর্যায়

(১) উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়:

এ পর্যায়ে কোম্পানি গঠনে আগ্রহী ব্যক্তিরা নিজেরা একত্রিত হয়ে কোম্পানির সম্ভাব্য নাম , কোম্পানির ধরন , মূলধনের পরিমাণ , মূলধন সংগ্রহের উপায় , কোম্পানির ঠিকানা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । উদ্যোক্তারা ব্যবসায় সংগঠনের সম্ভাব্য নাম স্থির করে নিবন্ধকের অফিস থেকে সে নামে ছাড়পত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন ।

(২)দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়:

এ পর্যায়ে কোম্পানির পরিচালকগণ কোম্পানি ব্যবসায়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রণয়ন করেন । এটি হলাে স্বারকলিপি এবং অন্যটি হলাে পরিমেল নিয়মাবলি । স্বারকলিপিকে কোম্পানির মূল দলিল , সনদ বা সংবিধান বলা হয় । এতে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন কোম্পানির নাম , নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা , উদ্দেশ্য , মূলধনের পরিমাণ , শেয়ারমালিকদের দায় – দায়িত্ব , ন্যূনতম চাঁদা ইত্যাদি বিষয় লিপিবদ্ধ করা হয় । অন্যদিকে পরিমেল নিয়মাবলিতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত প্রয়ােজনীয় সকল বিষয় লিপিবদ্ধ করা হয় ।

(৩)নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায:

এ পর্যায়ে কোম্পানি নিকন্ধনের জন্য নিবন্ধকের অফিস থেকে ফি দিয়ে আবেদনপত্র সগ্রহ করতে হয় ।আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে নির্ধারিত ফি ও প্রয়ােজনীয় দলিলপত্র নিবন্ধকের নিকট জমা দিতে হয় । নিবন্ধক নির্ধারিত আবেদনপত্র , সকল দলিলপত্র ও ফি পাওয়ার পর যদি সকল বিষয়ে সন্তুষ্ট হন তবে নিবন্ধন বইতে কোম্পানির নাম তালিকাভুক্ত করেন এবং নিবন্ধনপত্র প্রদান করেন । এ পত্র পাওয়ার পর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কাজ শুরু করতে পারে তবে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কাজ শুরু করার জন্য নিবন্ধকের নিকট থেকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয় ।

(৪)কার্যারম্ভ পর্যায়:

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাঁদা (Minimum Subscription) সংগ্রহের ঘােষণাপত্র এবং জনসাধারণের নিকট শেয়ার বিক্রয়ের ঘােষণাপত্রসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রসহ আবেদন করতে হয় । সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে এবং নিকন্ধক সন্তুষ্ট হলে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র প্রদান করেন । এ পত্র পাওয়ার পরেই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ব্যবসায় আরম্ভ করতে পারে।

তাছাড়া,

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক সম্পর্কে ভালভাবে জানতে পারলে ব্যবসা করা সহজ হবে।

লেখকঃ ল ফর ন্যাশনস, ইমেইলঃ lawfornations.abm@gmail.com,  মোবাইল: 01842459590.

ব্যবসা সম্পর্কে  আরো জানতে দেখুন কোম্পানি কত প্রকার ও কোম্পানি আইন সমূহ

ব্যবসা করার নিয়ম ও আইনগত দিক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পড়ুন

লেখক পরিচিতি

Responses