Home » আইন পড়াশুনা » র‍্যান্ডম আইন (Random law)
Random law in bd
Random law in bd

র‍্যান্ডম আইন (Random law)

আইন পেশায় আমার সরাসরি সিনিয়র রাজশাহী এডভোকেট বারের স্বনামধন্য আইনজীবী জনাব নজরুল ইসলাম খান। কাজের ফাঁকে চেম্বারে প্রায়ই আমরা আইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করতাম। উনি মাঝে মধ্যেই বলতেন Law is a cold logic, there is no room for emotion. আর বলতেন random law is always bad. আইনে আবেগের স্হান নাই। যে কোনো নতুন আইন প্রনয়নের পূর্বে চারিদিক বিবেচনায় নিতে হয় অর্থাৎ ইতিহাস , সামাজিক রীতিনীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস , নৈতিকতা , অর্থনৈতিক ব্যবস্হা , রাস্ট্রীয় অবকাঠামো সব কিছু ভেবেই করতে হয়। দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখতে হয় পরবর্তী ১০০ বছর পরে এই আইনের কী অবস্থা হতে পারে। এই কারণেই সম্ভবত পেনাল কোড তৈরীর জন্য তৎকালীন বৃটিশ গভর্ণমেন্ট প্রথম ল কমিশন গঠন করে ১৮৩৪ খৃষ্টাব্দে এবং বিভিন্ন রকম স্টাডি শেষে ১৮৬০ খৃষ্টাব্দে এই ভূখন্ডে পেনাল কোড পাশ করে। হঠাৎ করে কোন সমস্যা আসলো আর আবেগের বশবর্তী হয়ে ঘন ঘন নতুন আইন করে ফেললাম এটা ঠিক না। এই আইন গুলোকেই বলে র‍্যান্ডম আইন। এই আইন গুলোতে অনেক ধরনের সমস্যা , জটিলতা থাকে এবং বেশি দিন স্হায়ীও হয় না। আমরা যারা আইনের ছাত্র তারা জানি যে পেনাল কোড এ নারী ও শিশু দের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ধারা থাকা সত্ত্বেও সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে প্রথমে ১৯৮৩ সালে Cruelty to Women ( Deterrent Punishment ) Ordinance পাশ করে। পরে আবার উক্ত আইনটি বাতিল করে ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন করে। আবার পূর্বের আইনটি রিপিল করে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ,২০০০ তৈরি করে। এরপর পুনরায় উক্ত ২০০০ সালের আইন টি বাতিল না করলেও ২০০৩ সালে ব্যাপক আকারে সংশোধনী নিয়ে আসে। সম্ভবত ২০০৩ এর পর বর্তমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আর কোন সংশোধনী আসে নাই। আইন মানুষের জন্য আইনের জন্য মানুষ না। আইনে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে কিন্তু সেটা এতো দ্রুত হওয়া মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। একটি আইনের ডেভেলপমেন্ট কিন্তু একদিনে হয় না। দিনে দিনে , বছরের পর বছর বিচারক ও আইনজীবীদের যৌথ জ্ঞান , অভিজ্ঞতা , চর্চা ও প্রয়োগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত তৈরী হয় যার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম সহজেই তার জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করার সূযোগ পায়। র‍্যান্ডম আইনের কারনে আইনের এই ধারাবাহিক উন্নয়ন বা উৎকর্ষতা বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। একইভাবে বলা যায় ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের কথা। উভয় আইনের সামান্য কিছু বিষয় সংশোধনের জন্য পুরো আইনটি বাতিল করা হয়েছে এবং পুনরায় ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইন তৈরি করা হয়েছে যার কোন রকম আবশ্যকতা ছিল না। ১৯৮০ ও ১৯৯০ সালের আইনেই সংশোধনী দিয়ে পূর্বের আইনই রেখে দেওয়া যেত। মনে হচ্ছে আইনপ্রণেতাগন নতুন একটি আইন তৈরী করেই অধিক প্রশান্তি পেয়েছেন। কিন্তু উনারা খেয়াল করলেন না যে এতে অনেক সময় ধারাবাহিকতা নস্ট হয়। যাই হোক আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ শেষে বলি আমার বিজ্ঞ সিনিয়র জনাব নজরুল ইসলাম খান প্রায় ৮৫ বছর বয়সেও শারীরিক বেশ ভালোই আছেন। আপনারা সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0 0

Check Also

মাদক আইনের সংশোধনীতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা

"অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত …

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.