বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ১৫ই সফর, ১৪৪২ হিজরি

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সাংবিধানিক পেশাগত মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত!!

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

প্রত্যেকটি মানুষ জন্মসূত্রে কিছু অধিকার নিয়ে জন্ম নেয়, যেহেতু শিক্ষানবিশরাও মানুষ তদানুযায়ী শিক্ষানবিশরাও মানুষ হিসাবে কিছু মৌলিক অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে যাকে আমরা বলি জন্ম সূত্রে প্রাপ্ত অধিকার।

ভুল ত্রুটি সকল কিছু মার্জনা দৃষ্টিতে দেখার আবেদন করে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলোচনা সংবিধান এবং আইনের আলোকে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি।

যদিও আমাদের এই ক্ষুদ্র চিন্তা দিয়ে সংবিধানকে বিশ্লেষণ করে কোন অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো কিনা তা সৃষ্টিকর্তা ভালো জানেন।

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছদ ৪০ঃ

উক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা থাকবে –

“আইন দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ সাপেক্ষে কোন পেশা ও বৃত্তির গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য আইন দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হইয়া থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো আইনসঙ্গত পেশা ও বৃত্তি গ্রহণের এবং যেকোন আইনসঙ্গত কোন কারবার বা ব্যবসা পরিচালনা অধিকার থাকবে ”

বাধানিষেধ (Restrictions) :A limiting condition or measure specially a legal one

Occupation ( পেশা) ঃ

An income sufficient to live or the means of earning it.

আইন দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে শিক্ষানবিশদের ক্ষেত্রেঃ

শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা এডভোকেট তালিকাভুক্তি হতে হলে আইনি কিছু নিয়ম কানুন ও প্রক্রিয়া রয়েছে যা “বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডার , ১৯৭২ এর২৭(১) এর অনুচ্ছেদ এবং

” বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস&বার কাউন্সিল বিধি, ১৯৭২ এর বিধি নং ৫৮,৫৯,৬০ক,৬০খ,৬০গ,৬২ তে বর্ণিত আছে উক্ত প্রক্রিয়া শেষ করে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী এডভোকেট হিসেবে গণ্য হয়,

এতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর ভূমিকা ঃ

বার কাউন্সিল হলো শিক্ষানবিশদের আইনজীবীদের অভিভাবক, এই প্রক্রিয়াগুলোর শেষ করে অ্যাডভোকেট হিসাবে সনদ দিয়ে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সুযোগ দিয়ে থাকেন, তবে বার কাউন্সিল এর উপর আরোপিত কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে এক জন লিগ্যাল পারসন হিসেবে, লিগ্যাল পারসন এর সঙ্গা যদি সঙ্গায়ীত করি তাহলেঃ

“An individual, Company,or other entity which has legal rights and is subject to obligations ”

According to Article 10 of The Bangladesh Bar council, 1972

” Subject to provisions of this code and rules made thereunder the function of the Bar council shall be to admit person as Advocates on its roll.

তাহলে এই শিক্ষানবিশ আইনজীবী গনকে এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হলে তাদের কিছু দায়-দায়িত্ব বিদ্যমান রয়েছে। যেমন, পরীক্ষা নেওয়া,কোন মানের প্রশ্ন হবে তা নির্ধারণ করা, কোন ব্যক্তিবর্গ এই পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করবে, ইত্যাদি

প্রথমে আসি বার কাউন্সিল কত দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিতে হবেঃ

কত দিনের মধ্যে পরীক্ষার পদ্ধতি শেষ করতে হবে তা সম্পর্কে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল রুলস,১৯৭২ এর ৬০ খ তে স্পষ্ট রয়েছে একটু মনোযোগী হলেই বোঝা অত্যন্ত সহজ।

According to Rules 60 B of the Bangladesh Bar council Rules, 1972

“Provided that if a candidate after passing in the written examination fail to pass in the following viva-voce examination he/her may apply for next viva-voce examination along with payment for a fee of taka 300.

Provided further that a candidate shall have to pass the viva-voce examination in three attempts within a period of three years from the date of passing of written examination failing which the result of his/her written examination shall stand cancelled”

এখানে স্পষ্ট যে লিখিত পরীক্ষা পাস করার পর তিনবার তিন বছরের মধ্যে ভাইবা দিতে হবে ফেল করলে লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট বাতিল হয়ে যাবে, তার মানে তিন বছর মধ্যে বার কাউন্সিল কমপক্ষে তিনবার পরীক্ষা নিতে হবে উপরোক্ত আইনে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম দরুল ইহসান মামলায় ২০১৭ সনেআপিলেড ডিভিশন এই মতামত প্রকাশ করেছেন যে

“প্রতি বছরের মধ্যে একটি পরীক্ষা শেষ করতে হবে ”

তাহলে প্রশ্ন হলো শিক্ষানবিশ তাদের আইনসঙ্গত কাজগুলো শেষ করেছে বার কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকন্তু বার কাউন্সিল 2017 সালের পর একটি পরীক্ষা সম্পুর্ন সম্পাদন করতে পারেনি যেখানে আইন অনুযায়ী প্রতি বছর একটি প্রক্রিয়া শেষ করে আইনজীবী তালিকাভুক্তি করার কথা।তাহলে বার কাউন্সিল এখানে তাদের কর্ম সম্পাদনে ব্যর্থ হয়েছেন, এই ব্যর্থতার কুফল শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জীবন তচনচ করে দিয়েছে।

১২৭৮৭জন শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মধ্যে ৩৫০০ জন ২০১৭ সালে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য হয়ে যায় তাদের চলে গেল অদ্যবধি তিন বছর এবং অনেকেই ২০১৭ সালে সামান্য সময়ের জন্য MCQ পাননি তারা ২৮.২.২০২০ সালে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাহলে তাদেরও কমবেশি চলে গেল দুই বছর এই যে সময় ধ্বংস হয়ে গেল এতে তারা পারিবারিক সামাজিক আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হলো এই দায়ভার কার??

এবং এখন যদি পরীক্ষা নেয় তাহলে আরো চলে যাবে দুই বছর তাদের জীবন থেকে মোট পাঁচ বছর সময় চলে যাবে এটা বার কাউন্সিল অবৈধভাবে(unlawfully) শিক্ষানবিশদের অর্থিক মানসিক ও সামাজিক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন করেছে।

ক্ষতি সঙ্গা যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে দন্ডবিধি আইন ১৮৬০ এর ৪৪ নং ধারা অনুযায়ী

ক্ষতি ঃ

” যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পতির অবৈধভাবে কোনরূপ ভাবে ক্ষতি সাধন করে তাহলে তা ক্ষতি হিসেবে গন্য হবে”

তাহলে শিক্ষানবিশদের পেশাগত মৌলিক অধিকার হলো তারা পেশায় ঢুকবে যথাসময়ে কিন্তু সেই যথাসময়ের মধ্যে তাদের পেশাগত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সমাজ-রাষ্ট্র ও পরিবারের কাছে নগণ্য করে রেখেছে এবং আর্থিক, মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বার কাউন্সিল এর আব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে।

এখানে স্পষ্ট নয় কি শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সাংবিধানিক যে পেশাগত মৌলিক অধিকার রয়েছে তা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে?

শিক্ষানবিশআইনজীবীরা অ্যাডভোকেটশিপ সনদ ও ক্ষতিপূরণ কেন দাবিদার?
…..……………………………

According to Article 27 of the Bangladesh Constitution

“All citizens are equal before law and are entitle to equal protection of law”

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একই জাজমেন্ট এর আলোকে যদি ৫০ জন স্টুডেন্টের বেশি ভর্তির জন্য যদি দশ লক্ষ টাকা প্রাইভেটবিশ্ববিদ্যালয় কতৃক প্রাপ্ত হতে পারে তাহলে ও ঐজাজমেন্টের আলোকে কেন একবৎসরের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পাদন না করার করনে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা অ্যাডভোকেটশিপ সনদ ও ক্ষতিপূরণ পাবেনা?

Compensation :
………………………

It means something, typically money awarded to some one recognition of loss,suffering or injury.

What is the means of loss?
………….,……………………………..

The fact or process of lossing something or some one.

Process:
……………

A series of actions or steps taken in order to achieve a particular end.

Suffering :
………………
The state of undergoing pain,distress or hardship.

Distress:
……………
Extreme anxiety, sorrow or pain.

উপরে উল্লেখিত Compensation(ক্ষতিপূরনের)এর উপাদানের সহিত শিক্ষনবিশদের ক্ষতির সহিত যথাযথ, যুক্তিযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধায় ও সংবিধান অনুযায়ী আইন সকলের জন্য সমান তাই শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের ক্ষতিপূরন পেতে আইনগত তেমন কোন জটিলতা নাই বলে বোধ করছি।

Book Reference
……………………….
1.Bangladesh’s constitution,1972
2.Bangladesh Bar Council Order and Rules, 1972.
3.The Penal Code,1860.
4.Oxford Dictionary.

লেখক পরিচিতি

Responses