রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে জানেন কি আপনি ? সাথে জানুন হাই কোর্টের আইনজীবী হবার জন্য কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় পোশাক কেমন হবে।যারা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হতে চান, তাদের কিভাবে কি করতে হবে বা কি কি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তো চলুন দেখে নেওয়া যাক।

আইনজীবীর সংজ্ঞাঃ-

আইনজীবী বলতে বুঝায় ,একজন এ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার, এটর্নি , আইনি উপদেশক বা পরামর্শক যিনি আইন ব্যবসায়ী ।যিনি আইনের তাত্ত্বিক বিষয়গুলির বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তির বা সংস্থার আইনি সমস্যা সমাধানের কাজ করে থাকেন তাকে আইনজীবী বলা হয়।

"<yoastmark

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা-

১৯৭১ সালে পাকিস্তান হতে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে নিজস্ব সংবিধান গঠন এবং আইনী ব্যবস্থার প্রচলন হয়। আইনী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্র আইন বিভাগ চালু করা হয়।

বাংলাদেশের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বর্তমানে বহুসংখ্যক আইনজীবী তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে তারা দেশের বিচার বিভাগে তাদের অবদান রেখে যাচ্ছে।

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার পর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আইন বিভাগে অধ্যয়নের জন্য দেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। এরপর ৪ বছরের এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করার মাধ্যমে সেই ব্যক্তি বার কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা অর্জন করে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হতে হলে হাই কোর্টে ৫ বছর সফল ভাবে প্র্যাকটিসের পর একজন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে এবং আবেদন করার পর তা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক কর্তৃক মূল্যায়নের মাধ্যমে তাকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

হাই কোর্টের আইনজীবী হবার যোগ্যতাঃ-

হাই কোর্টের আইনজীবী হবার যোগ্যতা
হাই কোর্টের আইনজীবী হবার যোগ্যতাঃ

অনুচ্ছেদ-২১ঃ-  বাংলাদেশের কোন অধঃস্তন আদালতে নুন্যতম ২ বছর আইন পেশায় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা আইনে সম্মান পাস বা বাংলাদেশের বাইরে কোন আদালতে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় নিওজিত থাকতে হবে। ব্যারিষ্টারও এর অন্তভুক্ত হবে। এছাড়াও বার কাউন্সিলের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

হাই কোর্টের আইনজীবী হবার জন্য ২ বছর নিম্ন আদালতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে অথবা এল এল এম ডিগ্রি থাকলে ১ বছর নিম্ন আদালতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে সেই ব্যক্তি হাইকোর্র্টের আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিস করার সুযোগ পাবেন বা হাইকোর্টের আইনজীবী হওয়ার লাইসেন্স লাভের জন্য বার কাউন্সিলে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের পর বার কাউন্সিলের ১০০ মার্কের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর পরবর্তী ধাপ সাক্ষাৎকারের এর পর সে যদি যোগ্য প্রার্থী হয় তবে সে ব্যক্তি হাই কোর্টে প্র্যাকটিসের লাইন্সেস পাবেন।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসাবে আইন চর্চা করার জন্য-প্রাথমিক শর্তাবলী

  1. বার কাউন্সিল পরীক্ষার মাধ্যমে যে কোন বার এসোসিয়েশনে অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তহতে হবে।
  2. বাংলাদেশের কোন নিম্ন আদালতে কমপক্ষে ২ বছর প্র্যাকটিস করতে হবে বা
  3. আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী এবং অ্যাডভোকেট হিসাবে বিদেশের কোন আদালতে সরকারের অফিসিয়াল গেজেটে নির্দেশিত পন্থায় প্র্যাকটিস করেছেন বা
  4. যুক্তরাজ্যের বারে ব্যারিস্টার হিসাবে Call পেয়েছেন অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেLL.M এ 2nd class (50%mark) পেয়েছেন এবং সুপ্রীম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবীর চেম্বারে কমপক্ষে ২ বছর কাছ করেছেন বা
  5. বিচার বিভাগীয় অফিসার হিসাবে অন্ততঃ দশ বছর কাজ করেছেন। এরূপ অফিসারকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রণের আবশ্যকতা নেই।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আর ও কিছু শর্তাবলী নিচে দেওয়া হলোঃ

হাইকোর্টের আইনজীবী হওয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্তাবলী

  1.  কোন অ্যাডভোকেট যিনি উপরিউক্ত শর্তাবলী পূরন করেছেন তাকে নির্দেশিত পন্থায় হাইকোর্ট বিভাগে আইন চর্চা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানাতে হবে। আবেদন পত্র বার কাউনসিলে জমা দিতে হবে এবং উক্ত আবেদনপত্রে নিম্নোক্ত সংযুক্তি থাকতে হবে।
  2. সংশ্লিষ্ট বার এসোসিয়েশন হতে একটি সনদ এই মর্মে যে, উক্ত অ্যাডভোকেট তার বার এসোসিয়েশনের নিয়মিত সদস্য এবং ২ বছর আইন চর্চা করেছেন বা যুক্তারাজ্যের বারেতাকে ব্যারিস্টার হিসাবে Call করেছে এই মর্মে একটি সনদ বা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে LL.M এ উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগ অর্জন করেছেন এবং
  3. কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বারে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করেছেন এবং
  4. দেওয়ানী বা ফৌজদারী বা উভয় মামলা যা নিয়ে উক্ত অ্যাডভোকেট সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়েছে এরূপ ২৫টি মামলার তালিকা এবং
  5. হাইকোর্টের অনুমোদন ফি ৫,০০০ টাকা প্রদানের রশিদ কিংবা ব্যাংক ড্রাফটএবং
  6. উক্ত অ্যাডভোকেটের ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  7. প্রত্যেক আবেদনকারীকে Bangladesh Legal Paractitioners and Bar Council Rules, 1972 (65(2)) অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণপূর্বক পাশ করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় পোশাকঃ-

"<yoastmark

অর্ধস্তন আদালতের আইনজীবীদের পোশাক সম্পর্কে “Civil Rules and Order 1935, Part 1″ এর ৩৭ তম অধ্যায়ের ৮২৫, ৮২৬ বিধিতে বলা হয়েছে।

বিধি ৮২৫- সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীগণ অর্ধস্তন আদালতে উপস্থিত হবার সময় সুপ্রীম কোর্টের ন্যায় একই প্রকার গাউন পরিধান করবেন ।

পরিশেষে বলা যায় যে,

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের প্রথম কাজ বার কাউন্সিলের সনদ। বার কাউন্সিলের সনদ পাবার মাধ্যমে আপনি মূলত নিম্ন আদালতে কাজ করার সুযোগ পাবেন। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে কাজ করার জন্য আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।

লক্ষ করুন যে আপিল বিভাগে কাজ করার সুযোগ পেতে বিচারপতিদের স্বীকৃতি প্রয়োজন। বিশেষ ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি একজন আইনজীবীকে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনার অনুমতি দিতে পারেন।যে কোন আইনি সমস্যাকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা ও যুক্তির সাহায্যে সমাধান উপস্থাপনা করার দক্ষতা থাকা এ পেশায় অপরিহার্য।

আইনি উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করলে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে আপনার পদ বদলে যাবে।আদালতভিত্তিক কাজের বেলায় আইনজীবীদের পদোন্নতির ধারা সুনির্দিষ্ট। ধাপে ধাপে নিম্ন আদালত থেকে আপিল বিভাগে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন আপনি।

দেশে,বিদেশের সবচেয়ে পরিচিত ও চ্যালেঞ্জিং পেশা  হলো আইন পেশা।অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে সলিসিটর (Solicitor) ও ব্যারিস্টার (Barrister) শব্দের প্রচলন রয়েছে। অন্যদিকে আমাদের দেশে অ্যাডভোকেট বা উকিল নামের প্রচলন বেশি।

লেখকঃ ল ফর ন্যাশনস, ইমেইলঃ lawfornations.abm@gmail.com, মোবাইল: 01842459590.

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে পড়ুন

লেখক পরিচিতি

Responses