বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিচারপতি তাগাদা দিলেও আইন মন্ত্রণালয় তা পাত্তা দেয় না, এমন অভিযোগ করেছেন হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন।
গতকাল সোমবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী সমিতির (রুলা) ২২ বছর পূর্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন অভিযোগ করেছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণপত্রে প্রধান বিচারপতির নাম থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তাই বিচারপতি মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেনকে প্রধান অতিথি করা হয়। সেখানে নিজ বক্তব্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন বিচারপতি দস্তগীর হোসেন।
“অনেক সময় শোনা যায়, স্বাধীন হয়ে গেছি আমরা। এই দিকে সেক্রেটারিয়েট নাই। প্রধান বিচারপতি বারবার বলেন, আমাদেরকে দাও। মিনিস্ট্রি পাত্তাই দেয় না। মিনিস্ট্রি পাত্তা দিবে কেন? মিনিস্ট্রি হল সরকারের। আমরা হলাম জুডিশিয়ারি, এই জুডিশিয়ারির কথা শুনবে কে?”
বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “সচিবালয় না হলে আমাদের মনিটরিং, আমাদের কন্ট্রোলে যদি না আসে, জুডিশিয়াল পুলিশ বা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন না আসে, তাহলে স্বাধীন হতে পারব না।”
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আইনজীবীদের ‘নিষ্ক্রিয়তা’র দিকটিও তুলে ধরেন হাই কোর্ট বিভাগের এই বিচারক।
“এ ব্যাপারে তারা মাথাও ঘোরায় না। কারণ হল ফি পায়, মামলা করে; এগুলোর দরকার কী? স্বাধীনতা আবার কী জিনিস? আপনারা তো স্বাধীন আছেনই। বেইল দেন না, এরপর আবার কন স্বাধীন। এটা হয়?”
“আপনাদেরকেও স্বাধীনতার জন্য একটুখানি কাজ করতে হবে,” আহ্বান জানিয়ে আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারপতি দস্তগীর হোসেন বলেন, “আপনারা যে আর্গুমেন্ট করেন, বিচার চাই। তো বিচার চাইবেন কী করে?
“১৫-১৬ কোটি মানুষের দুই-আড়াই হাজার জজ রয়েছে। কোর্ট রুম যেগুলো আছে, সেখানে সকালে এক কোর্ট বিকালে আরেক কোর্ট বসে। বসারও জায়গা নাই। এগুলো নিয়ে আপনাদেরও কিছু বলা দরকার।”
“সবাই মিলে কাজ করলে আমরা স্বাধীন হতে পারব, বিচার দিতে পারব,” আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন তিনি।
বক্তব্যে আইনজীবীদের আবেদনের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিচারক।
“আইনজীবীদের পিটিশন দেখলে মনে হয়, মক্কেল তাদেরকে ঠিকমতো টাকা দেয় না। পেস্টিং বলে একটা নতুন কথা হয়েছে। সেখানে ৪৯৮’র আবেদনে দেখা যায় ‘১০২ অধীনে’ লিখে ফেলেন।”
অনুষ্ঠানে হাই কোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, জিল্লার রহমানও বক্তব্য রাখেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতির সভাপতি আমিনুল হক হেলাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কামাল জিয়াউল ইসলাম বাবু।




Discussion about this post